নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলায় চলাচলের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য একটি সেতুর নির্মাণকাজ জনগণের অনুদান ও স্বেচ্ছাশ্রমে শুরু করেছেন এলাকাবাসী। পাঁচ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ লাঘব করতে নিজ উদ্যোগে সেতু নির্মাণের কাজ আজ শুক্রবার বিকালে শুরু করেছেন গ্রামবাসী।
জেলার জলঢাকা উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের ১ ও ২নং ওয়ার্ড এবং কৈমারী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ওপর দিয়ে বহমান বুড়ি তিস্তা নদীর আজিজার চেয়ারম্যানের ঘাট নামক স্থানে এ সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে। সেতুটি আট ফুট প্রস্থ ও ৩৫০ ফুট লম্বা।
সেতুর নির্মাণব্যয় ধরা হয়েছে ২৫ লাখ টাকা, যা সম্পূর্ণ এলাকাবাসীর দেওয়া অনুদান। এতে ওই গ্রামগুলোর ১০ হাজারের অধিক মানুষের যাতায়াতের কষ্ট দূর হবে।
জানা যায়, জলঢাকা শৌলমারী ইউনিয়নের ও কৈমারী ইউনিয়নের ওই এলাকার প্রায় ১০ হাজার মানুষ বর্ষাকালে কলার ভেলা ও নৌকায় যাতায়াত করলেও শুষ্ক মৌসুমে বুড়ি তিস্তা নদীর ওই এলাকায় কোনো সেতু না থাকায় চরম অসুবিধায় পড়েন এলাকাবাসী। বিশেষ করে স্কুল-কলেজ, হাট-বাজার ও হাসপাতালে যেতে খুব অসুবিধা হয়। এ নিয়ে এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ও জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ধরনা দিয়েও সেতুটি নির্মাণ করতে পারেননি।
জুলাই বিপ্লবের পরে এলাকাবাসী, ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনের আংশিক অর্থায়নে গ্রামের লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে একটা সেতু নির্মাণের চেষ্টা শুরু করেন ইউপি চেয়ারম্যান। এ ব্যাপারে জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকির ইমরুল মুজাক্কিন জনগণের এ কাজকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, পরবর্তী সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে প্রকল্প নেওয়ার চেষ্টা করা হবে। বর্তমানে সব অর্থই জনগণের দেওয়া বলে তিনি আমার দেশকে জানান।
এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান আমার দেশকে জানান, চর এলাকার প্রতিটি পরিবার তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী দুই হাজার থেকে শুরু করে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত স্বেচ্ছায় দান করছে।