২০১৩ সালে চট্টগ্রামে বিএনপির একটি আয়োজন ঘিরে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রতি ক্ষোভে ফেটে পড়েছিলেন তৎকালীন চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ওই সময় মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা খসরুকে আন্দোলনে ‘বাধা দেওয়ার’ অভিযোগ তুলে কঠোর ভাষায় তিরস্কার করেন তিনি।
বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক নেতা গোলাম আকবর খোন্দকারের সঙ্গে বেগম জিয়ার সেই ফোনালাপ বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
ফাঁস হওয়া কথোপকথন
ভাইরাল হওয়া অডিওতে শোনা যায়, গোলাম আকবর খোন্দকারকে উদ্দেশ করে খালেদা জিয়া বলেন,
আকবর সাহেব, আপনি খসরুকে বলেন, আমি শাহাদাতকে একটি কাজের দায়িত্ব দিয়েছি। খসরু যেন কোনো কাজে বাধা না দেয়।
এ সময় গোলাম আকবর কিছু বলতে চাইলে খালেদা জিয়া উত্তেজিত হয়ে তাঁকে থামিয়ে দেন।
তিনি বলেন, আপনাকে যা বলছি, সেটাই করেন। বেশি কথা বলবেন না। বলে দেন—খসরু যেন কোনো কাজে বাধা না দেয়। কোনো কাজে যদি বাধা দেয়, ইমেডিয়েটলি রিমুভ করবো তাকে। সে বাধা দিচ্ছে…”
অডিওতে বেগম জিয়ার কণ্ঠে বিরক্তি, ক্ষোভ ও কর্মসূচি সফল করার চাপ স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে।
২০১৩ সালটি ছিল বিএনপির তৎকালীন সরকারবিরোধী আন্দোলনের তুঙ্গকাল। চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় দলীয় কর্মসূচি ঘিরে বিরোধ–অবস্থার অভিযোগ প্রায়ই শোনা যেত। সেই সময় মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন আমির খসরু এবং সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন গোলাম আকবর খোন্দকার। বর্তমান মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন তখন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছিলেন।
ঘটনার সূত্রপাতও একটি দলীয় সভা বা বিক্ষোভ আয়োজনকে কেন্দ্র করে। বেগম জিয়ার নির্দেশের পরও আমির খসরু ‘প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছেন’ বলে অভিযোগ উঠে। সেই অভিযোগই তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে চেয়ারপারসনের মনে।
ভাইরাল হওয়া কথোপকথনের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন গোলাম আকবর খোন্দকার। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে আমার দেশ-কে তিনি বলেন, হ্যাঁ, এটি ২০১৩ সালের একটি ঘটনা। ম্যাডাম একটি প্রোগ্রাম করতে বলেছিলেন। তখন খসরু সাহেব ওই সভার বিরুদ্ধে ছিলেন। সেই নিয়েই ম্যাডামের সঙ্গে আমার ওই কথোপকথন হয়েছিল।
তিনি জানান, তখন আন্দোলনের বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে মহানগর কমিটির মধ্যে মতভেদ তীব্র ছিল। কেন্দ্রীয় নেতারা বিভিন্ন সময় স্থানীয় পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কর্মসূচির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। খসরু সাহেব একটি প্রোগ্রামের বিরুদ্ধে ছিলেন।
বিষয়টি জানতে আজ দুপুরে একাধিকবার আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর মুঠোফোনে কল করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তিনি কল রিসিভ করেননি এবং মেসেজেরও কোনো উত্তর দেননি।
ভাইরাল অডিও নিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় কোনো নেতা প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে রাজি হননি। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের একাধিক ব্যক্তি বলেছেন, পুরোনো একটি অডিও হঠাৎ করে প্রচার পাচ্ছে—এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে কি না, সেটি দেখার বিষয়।