তিস্তা নদীর অভ্যন্তরে গভীর গর্ত করে অবৈধভাবে বোমা মেশিন স্থাপন করে পাথর উত্তোলনের ঘটনায় ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ১০ জনের বিরুদ্ধে খনি ও খনিজ সম্পদ (নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন) আইন-১৯৯২ এর ৫ ধারায় মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিমলা থানার ওসি।
পুলিশ জানায়, উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের গুঞ্জরখা এলাকায় তিস্তা নদীর ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে একটি অসাধু চক্র গভীর গর্ত করে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করে আসছিল। এ বিষয়ে ৮ ফেব্রুয়ারি নীলফামারী জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটি মাসিক সমন্বয় সভায় গুরুত্ব সহকারে আলোচনা করা হয়। সভায় তিস্তা নদী থেকে অবৈধ ভাবে বোমা মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলনে এলাকার রাস্তাঘাট, বসতবাড়ি দেবে যাওয়ার অভিযোগ তুলেন। এমন কি মেশিনের শব্দে এলাকাবাসী ঘুমাতে পারছে না বলেও অভিযোগ তোলা হয়।
এরই প্রেক্ষিতে ডিমলা থানা পুলিশ সোমবার দিবাগত গভীর রাতে সাঁড়াশি অভিযান চালায়। অভিযানকালে তিস্তা নদী থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের সময় ৫ জনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, পূর্ব খড়িবাড়ি দিঘীর পাড় গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে তারিকুল ইসলাম (২৬), মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে আলিয়ার রহমান (৪৫), মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে তাইজুল ইসলাম (৪৫), মশিয়ার রহমানের ছেলে মিজানুর রহমান (৩৫) এবং নুর ইসলামের ছেলে আব্দুল মান্নান (৩৫)।
এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ৫ জন পালিয়ে যায়। পালানোর সময় তারা পাথর উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত বোমা মেশিন ট্রলিতে তুলে নিয়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় ডিমলা থানার এসআই পঙ্কজ চন্দ্র বর্মণ বাদী হয়ে গ্রেপ্তারকৃত ও পলাতক ১০ জনের বিরুদ্ধে খনি ও খনিজ সম্পদ (নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন) আইন-১৯৯২ এর ৫ ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলার নম্বর-১০, তারিখ ১০/০৩/২০২৬ ইং।
ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ শওকত আলী মামলা দায়ের ও গ্রেপ্তার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তিস্তা নদী থেকে অবৈধ পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এবং পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।