হোম > সারা দেশ > ঢাকা

স্বতন্ত্রের মুখোশে আ. লীগের প্রার্থী হলেন রফিকুল

জেলা প্রতিনিধি, মানিকগঞ্জ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ না থাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠের বাইরে থাকলেও মানিকগঞ্জের রাজনৈতিক বাস্তবতা যেন ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে। দলীয় পরিচয় বদলে ‘স্বতন্ত্র’ ব্যানারে নির্বাচনি মাঠে সক্রিয় হচ্ছেন আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ ড. রফিকুল ইসলাম খান। এরই মধ্যে মানিকগঞ্জ–৩ (সদর–সাটুরিয়া) আসনে আলোচনায় উঠে এসেছেন তিনি।

গত ২৯ ডিসেম্বর জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন ড. রফিকুল ইসলাম। তাঁর বাড়ি মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার দরগ্রাম ইউনিয়নের নওগাঁও গ্রামে। এলাকায় তিনি আগে থেকেই একজন পরিচিত রাজনৈতিক মুখ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ড. রফিকুল ইসলাম খান যুক্তরাষ্ট্রের মিশৌরি অঙ্গরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। যদিও দেশে তিনি এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন, তবে তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও পরিচয় আওয়ামী লীগের সঙ্গেই জড়িত বলে দাবি স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।

স্থানীয়দের ধারণা, কার্যক্রম নিষিদ্ধ হলেও আওয়ামী লীগের একটি নির্দিষ্ট ভোট ব্যাংক এখনো সক্রিয় রয়েছে। সেই ভোটকে লক্ষ্য করেই ড. রফিকুল ইসলাম ‘খোলস পাল্টে’ নির্বাচনি মাঠে নেমেছেন। প্রকাশ্যে দলীয় পরিচয় ব্যবহার না করলেও নেপথ্যে সংগঠন ও সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার অভিযোগ উঠেছে।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগ ঘরানার বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক ও দেন–দরবার শুরু করেছেন ড. রফিকুল ইসলাম। এসব বৈঠকের উদ্দেশ্য আসন্ন নির্বাচনে সমর্থন নিশ্চিত করা বলেই মনে করছেন অনেকে।

এর আগে একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন ড. রফিকুল ইসলাম খান। সে সময় তিনি দলের মনোনয়নপত্র কিনে দাখিলও করেন। তবে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালিকের প্রভাব ও রাজনৈতিক চাপে শেষ পর্যন্ত তিনি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে।

সাটুরিয়া উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরেই একটি কথা প্রচলিত আছে, আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডের সঙ্গে ড. রফিকুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ ও সুসম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের সুবাদেই তিনি একসময় আওয়ামী লীগের টিকিটে সংসদ সদস্য হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন বলে দাবি স্থানীয়দের।

সব মিলিয়ে মানিকগঞ্জ–৩ আসনের নির্বাচনি লড়াইয়ে ড. রফিকুল ইসলাম খান এখন আলোচনার কেন্দ্রে। তিনি সত্যিই স্বতন্ত্র প্রার্থী, নাকি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অঘোষিত প্রতিনিধি—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে এলাকাবাসী। ভোটের দিন যত এগিয়ে আসবে, ততই স্পষ্ট হবে এই রাজনৈতিক কৌশলের বাস্তব চিত্র।

নির্বাচনি মাঠে আওয়ামী লীগের তকমা ঝেড়ে ফেলে তিনি এখন গরিবের বন্ধু পরিচয়ে প্রচার চালাচ্ছেন। একই সঙ্গে আওয়ামী ঘরানার ভোট ব্যাংক পুনরুদ্ধারে নীরব দেনদরবারও চলছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। যেসব নেতাকর্মী এলাকা ছেড়ে পলাতক, তাদের আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে গোপন যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ড. রফিক খান ইতোমধ্যে হিন্দু কমিউনিটির একাধিক নীতিনির্ধারক ও প্রভাবশালী নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন। এ ছাড়া মানিকগঞ্জ শহরের কয়েকজন আইনজীবী, পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের একাধিক সাবেক নেতা এবং স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনে নেপথ্যে থেকে প্রভাব বিস্তারকারী বেশ কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গেও তার নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে।

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের শাসনামলে শেখ হাসিনার সঙ্গে আমেরিকাপ্রবাসী আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে ড. রফিক খানের ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়টি জেলা ও সাটুরিয়া উপজেলা পর্যায়ের অধিকাংশ নেতাকর্মীর কাছেই পরিচিত।

দেখা গেছে, তার ব্যক্তিগত ভেরিফাইড ফেসবুক পেজের অ্যালবামে তার সঙ্গে সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনিসহ বিভিন্ন প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতাদের ছবি এখনো বিদ্যমান। তিনি তার ফেসবুক পেজে আপলোড করা এক পোস্টারে দাবি করেছেন, ‘আসুন, সম্ভাবনার পথে চলি; আপস নয়, অন্যায় ও অপশক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করাই রাজনীতি। আসুন, দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ি।’

আমেরিকায় থাকতে সেখানের দলীয় সভাপতি ছিলেন বলে স্বীকার করে ড. রফিকুল ইসলাম জানান, দেশে ফিরে ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে নির্বাচন করতে গিয়ে সফলতা না পেয়ে এবার তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন।

এসআই

খেলাফত মজলিসের প্রার্থীসহ দুজনের মনোনয়নপত্র বাতিল

ফাতাহর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে হামাসের অভিনন্দন

আত্মগোপনে থাকা যুবলীগ নেতা তারাপদ গ্রেপ্তার

প্রাণ কোম্পানিতে খাবার খেয়ে অর্ধশতাধিক শ্রমিক অসুস্থ

মাহমুদুর রহমান মান্নার মনোনয়নপত্র বাতিল

স্ত্রী ও সন্তান হারানো সাংবাদিক আনছার হোসেনের বাড়িতে সালাহউদ্দিন আহমদ

আমার দেশ-এ সংবাদ প্রকাশের পর জনস্বার্থে ওসি বদলি

মিরসরাইয়ে তিন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল, সাতজনের বৈধ

নিজ রাইফেলের গুলিতে বিজিবি সদস্যের মৃত্যু

সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি মুকতাবিস-উন-নূর, সেক্রেটারি সিরাজুল