বরগুনার তালতলীতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ২ একর জমি অবৈধভাবে দখল করে মাছের ঘের নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। পাউবো কর্মকর্তাদের সাথে যোগসাজশ করেই চলছে এই দখলের মহোৎসব।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের ছোট নিশানবাড়িয়া মেীজায় নলবুনিয়া এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রায় ২ একর জমি দখল করে খননযন্ত্র (ভেকু) দিয়ে মাছের ঘের নির্মাণ করেছেন স্থানীয় প্রভাবশালী বাসিন্দা সোহরাফ হাওলাদার, সিদ্দিক হাওলাদার, মস্তফা বিশ্বাস, লাল মিয়া, আ. হক মিয়া ও লাল মিয়া হাওলাদার। তবে তাদের এসব কার্যক্রম বন্ধে গত ১ এপ্রিল শুধু একটি মাটি কাটা বন্ধকরণ নোটিশ দিয়েই দায় সেরেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। নোটিশ পাওয়ার পরও দাপটের সাথে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে দখলদাররা। কারণ পানিউন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তাদের যোগসাজশেই কাজগুলো চলছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
স্থানীয় বাসিন্দা বাবুল হাওলাদার, নজরুল হাওলাদার, সেলিম চৌকিদার, শাহজাহান শেখ বলেন, সরকারি জমিতে খননযন্ত্র (ভেকু) দিয়ে মাছের ঘের নির্মাণ করতেছে। আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউব) কর্মকর্তাদের একাধিকবার জানিয়েছি। কিন্তু কর্মকর্তারা শুধু একটা নোটিশ পাঠিয়েই চুপ হয়ে গেছে, মূলতঃ তাদের সাথে যোগসাজশ করেই চলছে দখলের মহোৎসব। আসলে লোক দেখানো নোটিশ দিয়ে দখলদারদেরই সুযোগ করে দিচ্ছে তারা।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নোটিশ প্রাপ্ত সিদ্দিক হাওলাদার, সোহরাফ হাওলাদার, মস্তফা বিশ্বাস বলেন, আমরা এখানে ৪২ বছর ধরে বসবাস করতেছি। আমাদের এখানে সমুদ্র থেকে লবন পানি ঢুকে সমস্যা হয় এজন্য সামান্য মাটি কাটছি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন এসে দেখে গেছেন তারা বলছে, এতে কোন ক্ষতি নেই।
পরিবেশবাদী সামাজিক সংগঠন ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের তালতলী-আমতলী উপজেলার সমন্বয়ক আরিফ রহমান বলেন, উপকূলীয় এলাকায় পাউবোর জমি বা বাঁধ সংলগ্ন এলাকাগুলো মূলতঃ প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষার জন্য ঢাল হিসেবে কাজ করে। সেখানে ভেকু দিয়ে মাটি খনন করে ঘের তৈরি করায় বাঁধের স্থায়িত্ব নষ্ট হচ্ছে এবং লোনা পানি অনুপ্রবেশের ঝুঁকি বাড়ছে।
তিনি আরো বলেন, যেখানে সরকারের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে জলাশয় বা সরকারি জমি রক্ষায়, সেখানে প্রভাবশালীরা আইনকে তোয়াক্কা না করে ঘের নির্মাণ করছেন। এটি জনস্বার্থের চরম পরিপন্থি।
এ বিষয়ে বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুল হান্নান বলেন, দখলদারদের বিরুদ্ধে নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। আইন অমান্য করে পুনরায় কাজ পরিচালনা করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেডএম