ভোলার বোরহানউদ্দিনে হ্যাপি আক্তার (২৫) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার দুপুরে উপজেলার মানিকারহাট বাজার সংলগ্ন রাড়ি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত হ্যাপি আক্তার বোরহানউদ্দিন পৌর এলাকার ৭নং ওয়ার্ডের আব্দুল মালেকের মেয়ে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার বছর আগে বড়মানিকা ২নং ওয়ার্ডের রাড়ি বাড়ির শাহজাহানের ছেলে লিমনের সঙ্গে পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের দুই বছর বয়সি একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, স্বামী মো. লিমন ঢাকায় একটি ঔষুধ কোম্পানিতে চাকরি করেন এবং স্ত্রী হ্যাপিকে নিয়ে বাবু বাজার কদমতলী এলাকায় বসবাস করতেন। সম্প্রতি ঈদ উপলক্ষে তারা গ্রামের বাড়িতে আসেন। ঈদের ছুটি শেষে লিমন ঢাকায় ফিরে গেলেও হ্যাপি তার শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে স্বামীর বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। আগামীকাল বৃহস্পতিবার তার স্বামীর কাছে ঢাকায় যাওয়ার কথা ছিল। এরই মধ্যে বুধবার হ্যাপির ঝুলন্ত লাশ তার শ্বশুর বাড়ির শয়নকক্ষ থেকে উদ্ধার করা হয়। তবে এ মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে মানতে নারাজ নিহতের পরিবার।
হ্যাপির বাবা আব্দুল মালেক অভিযোগ করে বলেন, আমার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তার শ্বশুর-শাশুড়ি দীর্ঘদিন ধরে তাকে নির্যাতন করত। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
অন্যদিকে স্থানীয়দের মধ্যে ঘটনা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ এটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করছেন, আবার কেউ পারিবারিক কলহের জেরে হত্যাকাণ্ডের আশঙ্কা করছেন।
এ বিষয়ে বোরহানউদ্দিন থানার ওসি মনিরুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল তৈরি করে। এ বিষয়ে একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ভোলা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হবে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও পরিবারের অভিযোগ গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।