যতদূর চোখ যায়,ততদূর যেনো শুধু চোখধাধানো হলুদাভ স্নিগ্ধতা। সকালের সূর্যের আগমন দেখলে মনে হবে সূর্যের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষার পানে তাকিয়ে আছেন সূর্যমুখী এই ফুল।।সূর্যমুখী শুধু একটি তেল জাতীয় উদ্ভিদই নয়, নয়নাভিরাম সৌন্দর্যের জন্য এই ফুলের জুড়ি নেই। তৈলজাত এ উদ্ভিদ পুষ্ঠিগুনে অনন্য হওয়ায় ভোজ্যতেলের চাহিদা মেটাতে ভোলার তজুমদ্দিনে সূর্যমুখীর চাষ হতে পারে কৃষকদের জন্য সম্ভাবনার হাতছানি। কৃষকেরা বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ না করলেও পরীক্ষামূলকভাবে অনেক কৃষকেই এ বছর সূর্যমুখীর চাষ করেছেন । আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বেশ লাভবান হওয়ার আশা করছেন চাষিরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরেই কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ও কৃষি অফিসের পরামর্শে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সূর্যমুখীর চাষ শুরু হয়। উর্বর মাঠি ও অল্প খরচেই সূর্যমুখী চাষ বেশ লাভজনক হওয়ায় এই চাষাবাদে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। এ বছর সূর্যমুখী প্রজেক্টের আওতায় পার্টনার প্রকল্পের মাধ্যমে ৩টি এবং তেল প্রকল্পের মাধ্যমে ১৫টি প্রদর্শনীকে ও প্রণোদনা কর্মসূচীর আওতায় এনে উপজেলার বিভিন্নস্থানে প্রায় ৮৫ হেক্টর একর জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করা হয়। যার লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৮২ হেক্টর যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩ হেক্টর জমিতে বেশি চাষ হয়েছে। এ অঞ্চলে সাধারণত প্রজাপতি জাতের সূর্যমুখীর চাষ হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ভালো ফসল উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আড়ালিয়া গ্রামের চাষি মেঘনাথ দাস বলেন, আমি গত তিন বছর ধরে সূর্যমুখীর চাষ করি। বিগত বছরগুলোতে যে পরিমাণ ফসল পেয়েছি তাতে নিজেদের তেল ব্যবহারের পাশাপাশি বিক্রিও করেছি। কম খরচে অন্য ফসলের চেয়ে ভালো ফলন হওয়ায় এবছর কৃষি অফিস থেকে বীজ সংগ্রহ করে প্রায় ৩০ শতাংশ জমিতে সূর্যমুখীর চাষাবাদ করি। জমি চাষ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত প্রায় ৮ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ৮ থেকে ৯ মন করে ফলন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর কয়েকদিন পরে ফসল ঘরে তুলবো। আশা করি এতে ভালো লাভবান হওয়া যাবে।
এদিকে মেঘনাথ দাস এর চাষাবাদ দেখে একই গ্রামের ভাস্কর চন্দ্র মজুমদার, জাকির হোসেন, শ্যামল চন্দ্র দাসসহ অনেকেই সূর্যমুখী চাষ করেছে। তারা বলেন আমরা এক সময় সরিষা চাষাবাদ করলেও গত কয়েক বছর ধরে আমার সূর্যমুখী চাষাবাদ করছি, কারণ সরিষার চাষের চেয়ে সূর্যমুখী চাষে খরচ কম এবং লাভ বেশি। তাই আমরা এখন সরিষা চাষ না করে সূর্যমুখী চাষ করি।
উপজেলা কৃষি অফিসার, কৃষিবিদ মো. ইব্রাহিম বলেন, সূর্যমুখী একটি তেলজাতীয় ফসল, যা আমাদের দেশের ভোজ্য তেলের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বর্তমানে আমাদের তেলের চাহিদা পূরণ করতে প্রচুর পরিমাণ ভোজ্য তেল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। যদি আমরা সূর্যমুখী চাষ আরো বাড়াতে পারি তাহলে বিদেশ নির্ভরতা অনেকাংশে কমানো সম্ভব। সূর্যমুখী শুধু লাভজনকই নয়, এটি আমাদের দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।