হোম > সারা দেশ > বরিশাল

ভোলায় বরখাস্ত আওয়ামী লীগ নেতাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব, ইউএনওকে শোকজ

জেলা প্রতিনিধি, ভোলা

ভোলার মনপুরায় আওয়ামী লীগ নেতাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক করায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আবু মুসাকে শোকজ করেছে আদালত। ভারপ্রাপ্ত করা প্রধান শিক্ষক মোঃ মহিউদ্দিন উপজেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক। একইসঙ্গে বিতর্কিত আদেশটি স্থগিত করে বিবাদীদের ৫ দিনের মধ্যে জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটি সূত্র জানায়, গত ৩০ মার্চ ইউএনও আবু মুছা আকস্মিকভাবে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে কমিটির অন্য সদস্যদের অবহিত না করে এবং কোনো রেজুলেশন ছাড়াই এককভাবে সাময়িক বরখাস্তকৃত শিক্ষক মোঃ মাইনউদ্দিনকে স্বপদে বহালের দোহাই দিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়ার আদেশ জারি করেন। এতে কমিটির সদস্যদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং তারা আদালতের শরণাপন্ন হন। পরবর্তীতে আদালত ইউএনওকে শোকজ করেন।

আরও জানা যায়, ৮ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে বিদ্যালয়ের বিদায়ী প্রধান শিক্ষকের সংবর্ধনা ও এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানে অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনায় মোঃ মাইনউদ্দিন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিখন বনিক ওই দিনের বিষয়টি তদন্ত করতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসারকে পৃথক দায়িত্ব দেন। তাদের তদন্ত প্রতিবেদনে ওই ঘটনায় মাইনউদ্দিনের সম্পৃক্ততার বিষয়টি উঠে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে।

অন্যদিকে মনপুরা সিভিল জজ আদালতে এ সংক্রান্ত মামলার সূত্রে জানা যায়, মোঃ মাইনউদ্দিন ২০১৫ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পূর্ববর্তী প্রতিষ্ঠানের তথ্য গোপন করে অনিয়মের মাধ্যমে ছমেদপুর বাংলাবাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী প্রয়োজনীয় যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও তিনি একাধিক তৃতীয় শ্রেণি নিয়ে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে বেআইনিভাবে নিয়োগ নেন বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। এছাড়াও, নিয়োগের ফলাফল শিটের নম্বর কাটাছেঁড়া করে তাকে পাস করানো হয়েছে বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে। নিয়োগের পর থেকেই তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। সরকার পরিবর্তনের পর সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আবদুল্লাহ আল নোমান মোঃ মাইনউদ্দিনের নিয়োগ প্রক্রিয়া চ্যালেঞ্জ করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে আবেদন করেন, যা বর্তমানে জেলা শিক্ষা অফিসার, ভোলা কর্তৃক তদন্তাধীন রয়েছে।

সাময়িক বরখাস্তকৃত এবং তদন্ত চলমান থাকা মোঃ মাইনউদ্দিনকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কর্মকাণ্ডে অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে মোঃ মাইনউদ্দিনকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে তারা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দ্বারস্থ হবেন বলেও জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আবু মুছার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আজাদ-সম্পাদক ইমন

ডিজেল সংকটে পানিশূন্য বোরো ধানের ক্ষেত, বিপাকে কৃষকরা

আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পে অনিয়ম, নলছিটির সাবেক ইউএনও’কে শাস্তি

নিহত উজ্জ্বল কর্মকারের পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন ড. মাসুদ এমপি

বরিশাল বিভাগে আলোচনায় চার নারী নেত্রী

জেলের জালে ধরা পড়লো বিরল ‘ব্রাউন সার্জনফিশ’

ইউনিয়ন পরিষদের গাছ কেটে নেয়ার অভিযোগ যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে

বিসিসি প্রশাসকের একান্ত সচিব হলেন সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা

চরমোনাই পীরের দরবারে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ

প্রতিবন্ধী এনামুলসহ চার ভাইবোনের ঠাঁই হয়নি বাবার সংসারে