চরমোনাই পীর
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করিম বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নব্য জালিম ও ফ্যাসিস্টদের মসনদ টিকবে না। ইনশাআল্লাহ, এবারের নির্বাচনের মাধ্যমেই অন্যায়, দুর্নীতি ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে জনগণের বিজয় নিশ্চিত হবে।
শনিবার সন্ধ্যায় পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসন মাঠে পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া–রাঙ্গাবালী–মহিপুর) আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যাপক মো. মোস্তাফিজুর রহমানের (হাতপাখা) সমর্থনে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চরমোনাই পীর হুঁশিয়ারি দেন, তিনি কারও বিরুদ্ধে সরাসরি কথা বলেন না, তবে যারা ভয়ভীতি দেখিয়ে রাজনীতি করতে চান, তাদের আয়নার সামনে নিজের চেহারা দেখার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ফেরাউনের মসনদ টেকেনি, নমরুদের মসনদও টেকেনি—ঠিক তেমনি জালেম ও দুর্নীতিবাজদের মসনদও টিকবে না। আগামী নির্বাচনে তাদের উৎখাত হবেই।
তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান ছিল গত ৫৪ বছরের দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিবাদ। সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে জমে থাকা অন্যায়, নিপীড়ন এবং মায়ের কোল শূন্য হওয়ার মতো বেদনাদায়ক বাস্তবতা থেকেই এই পরিবর্তনের দাবি উঠে এসেছে। সেই পরিবর্তন বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই কলাপাড়ায় অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমানকে প্রার্থী করা হয়েছে।
পীর সাহেব চরমোনাই দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কোনো দুর্নীতিবাজকে মনোনয়ন দেয়নি। সৎ, যোগ্য ও জনবান্ধব নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠাই তাদের রাজনীতির মূল লক্ষ্য। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে যদি অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বিজয়ী হন, তাহলে আল্লাহ তাআলা এ এলাকার মানুষের মুখে হাসি ফোটাবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
নির্বাচনি সভায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যাপক মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলনের নেতা মুফতি হাবিবুর রহমান মিসবাহ, কে এম শরীয়াতুল্লাহ, মামুনুর রশীদ খান ইউসুফী, হোসাইন ইবনে সরোয়ার, মো. সেলিম মিয়া, মাওলানা হেদায়েত উল্লাহ জিহাদী, মুফতি নাঈমুল ইসলাম, মেজবাহ উদ্দিন খান দুলাল, মাহবুবুল আলম, অ্যাডভোকেট নুর হোসেন খান, রোহান সিদ্দিকী, হোসাইন সরোয়ারসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
এর আগে কলাপাড়া শহরে হাতপাখা প্রতীকের সমর্থনে হাজারো নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে বিশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জনসভাস্থলে এসে শেষ হয়। পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ ও ব্যাপক জনসমাগম লক্ষ করা যায়।