হোম > সারা দেশ > বরিশাল

পাঁচ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পেয়ে উন্নয়নের প্রত্যাশায় বরিশালের মানুষ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চমকে আবেগাপ্লুত তারা

নিকুঞ্জ বালা পলাশ, বরিশাল

বরিশাল বিভাগের ২১টি সংসদীয় আসন থেকে এবার সর্বাধিক ১৮ জন বিএনপি জোটের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে পুরো দেশকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। বরিশাল যে বিএনপির ঘাঁটি, তা প্রমাণ করেছেন ভোটার এবং শীর্ষস্থানীয় নেতারা। এ কারণেই বিভাগটিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ইতিহাসের সব রেকর্ড ভেঙে এবারই প্রথম বরিশালকে পাঁচজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী উপহার দিয়েছেন তিনি। এদের মধ্যে দুজন পূর্ণ মন্ত্রী এবং তিনজন প্রতিমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ চমকে অনেকটা আবেগাপ্লুত বরিশালের মানুষ। এসব মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের কাছে উন্নয়নের প্রত্যাশায় বুক বাঁধছেন তারা।

সূত্রমতে, বিভাগের ২১ আসনের মধ্যে বরিশাল জেলায় ছয়টি সংসদীয় আসন রয়েছে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ছয়টি আসনেই বিপুল ভোটে জয়ী হন বিএনপির প্রার্থীরা। ছয় সংসদ সদস্যের মধ্যে দুজন মন্ত্রিপরিষদে জায়গা পেয়েছেন। এর মধ্যে বরিশাল-১ (আগৈলঝাড়া-গৌরনদী) আসনের সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন নতুন সরকারের তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। এছাড়া বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য রাজিব আহসান পেয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় ও নৌপরিবহন মন্ত্রণায়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব। এছাড়া বিভাগের অন্য ১৫টি আসনের মধ্যে বিএনপি ১১টি, বিএনপি জোট একটি, জামায়াত দুটি এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি করে আসনে জয়লাভ করে। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে ভোলা-৩ (লালমোহন-তজুমদ্দিন) আসনের হাফিজ উদ্দিন আহমদ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। তুমুল জনপ্রিয় এ নেতা ভোলার উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখবেন বলে মনে করছেন ভোলার মানুষ।

এছাড়া গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি, পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে প্রথমবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য নুরুল হক নুর শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। এছাড়া পিরোজপুর-২ (ভান্ডারিয়া-কাউখালী-স্বরূপকাঠি) আসনের সংসদ সদস্য আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন।

মঙ্গলবার বিকাল ৪টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন।

নতুন সরকার ও নবনিযুক্ত মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের কাছে অনেক প্রত্যাশা দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের। কয়েক যুগের বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে দারিদ্র্যের কশাঘাত থেকে মুক্তি চান তারা। স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চলে গড়ে ওঠেনি বড় কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান। এলাকার উন্নয়নের জন্য মানুষকে নামতে হয় রাজপথে। যেটুকু উন্নয়ন হয়েছে, তা দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের আন্দোলন-সংগ্রামের ফসল। বিগত সরকারের আমলে নির্বাচনের সময় প্রার্থীরা ভোটারদের উন্নয়নের বিভিন্ন আশা ও প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচনের পর তার কোনো বাস্তবায়ন হয়নি। তবে বরিশালবাসী নতুন আশার অলো দেখছেন নতুন মন্ত্রিপরিষদ পেয়ে। এছাড়া নির্বাচনি সমাবেশে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নের জন্য যে আশা ও প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেছেন, সেটির বাস্তবায়ন দেখতে চান বরিশালসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ।

এদিকে, বরিশাল নগরীতে নামমাত্র বিসিক শিল্পনগরী থাকলেও বিভিন্ন সংকটে গড়ে ওঠেনি উদ্যোক্তা। হাতেগোনা যে দুয়েকটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে, তাও হুমকির মুখে। এমতাবস্থায় দক্ষিণাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে ঢাকা-ভাঙ্গা-বরিশাল-পটুয়াখালী-কুয়াকাটা জাতীয় মহাসড়কের বরিশাল-ভাঙ্গা অংশের ছয় লেন প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাজ অবিলম্বে শুরু করার দাবি বরিশালবাসীর। কারণ হিসেবে তারা বলেন, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর বরিশাল-ঢাকা নৌরুটটি বন্ধ হওয়ার পথে। সহজে ও কম সময়ে ঢাকা যেতে পারছেন এ অঞ্চলের মানুষ। কিন্তু বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কটি সরু হওয়ায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। তাই বরিশাল-ঢাকা সড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার দাবি তুলছেন এ অঞ্চলের মানুষ। এছাড়া ঢাকা-বরিশাল রেললাইন চালুর দাবি দীর্ঘদিনের হলেও আলোর মুখ দেখেনি এ প্রকল্প। ভোলার গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে বরিশাল হয়ে ঢাকা ও খুলনা বিভাগে সরবরাহ, বরিশালে ইপিজেড প্রতিষ্ঠা, ১২ লাখ টন খাদ্য উদ্বৃত্ত বরিশালে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, বরিশাল-ঢাকা এবং যশোর-বরিশাল-চট্টগ্রাম আকাশপথে নিয়মিত বিমানের ফ্লাইট চালু, বরিশাল-চট্টগ্রাম উপকূলীয় নৌপথে স্টিমার সার্ভিস পুনর্বহাল, খালেদা জিয়ার স্বপ্ন ও ঘোষণা কুয়াকাটাকে ‘একান্ত পর্যটন এলাকা’ হিসেবে গড়ে তোলা এবং বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও কুয়াকাটা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন ছাড়াও বরিশালে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে নতুন সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনরা।

বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট নরুল ইসলাম খান রাজন ২৭ দফা দাবির মাধ্যমে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, বরিশালের পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পরিকল্পিত ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। বরিশালবাসীর দাবি, উন্নয়ন কার্যক্রমে যথাযথ পদক্ষেপ না নিতে পারলে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়বে। খাদ্যশস্যের মূল ভান্ডার দক্ষিণাঞ্চলের এ ক্ষতির প্রভাব পড়বে জাতীয় অর্থনীতিতে। তবে নতুন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা বরিশালকে উন্নত বরিশাল গড়ার জন্য কাজ করবেন বলে প্রত্যাশা এ অঞ্চলের মানুষের।

টেংরাগিরি কুমির প্রজনন কেন্দ্রে শতাধিক শাবকের মৃত্যু

জেলের জালে ধরা পড়ল ২৮ লাখ টাকার লাক্ষা মাছ

আমতলীতে বাসচাপায় মসজিদের খাদেম নিহত

পুকুরের পানিতে মিলল এক ব্যারেল ডিজেল

কাউখালীতে দুটি সরকারি হাইস্কুলে শিক্ষক সংকট, ভেঙে পড়েছে পাঠদান

সব শিশুকে হাম-রুবেলার টিকার আওতায় আনা হবে: স্বাস্থ্য উপদেষ্টা

কুয়াকাটার মরণফাঁদ ‘আন্ধারমানিক সেতু’

ভোলায় শিশু ধর্ষণ মামলায় দুই আসামি কারাগারে

পটুয়াখালীতে জেলেদের মধ্যে ২৭ হাজার লিটার ডিজেল সরবরাহ

গোপন বৈঠক থেকে ববি ছাত্রলীগের পাঁচ কর্মী আটক