দ্বিতীয় স্ত্রীকেও হত্যার দায়ে আরেকটি মামলায় মৃত্যুদন্ডের রায় দিয়েছিলো একই আদালত
তৃতীয় স্ত্রীকে হত্যা করে লাশ গুমের ঘটনায় ঘাতক স্বামী সোহরাব হোসেন আকনকে (৪৫) মৃত্যুদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
রোববার (৫ অক্টোবর) দুপুরে বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহাম্মদ রকিবুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। এ সময় দন্ডপ্রাপ্ত সোহরাব আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, সোহরাব তার তৃতীয় স্ত্রী লিমা বেগমকে ২০১৩ সালের ১ ডিসেম্বর হত্যা করে লাশ গুম করে। এরপর থেকে লিমার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। লিমা মুলাদী পৌর শহরের তেরচর গ্রামের মো. হোসেন পাটোয়ারীর মেয়ে। নিখোঁজের ঘটনায় প্রথমে লিমার বোন ডলি বেগম মুলাদী থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে ২০১৪ সালের ১৪ জানুয়ারি হত্যা ও গুমের মামলা দায়ের করা হয়। দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত আজ সোহরাবকে নারী নির্যাতন দমন আইনের ১১(ক) ধারায় ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, লিমার প্রথম স্বামী ছিলেন ফেরদৌস হোসেন। তার সঙ্গে বাবার বাড়িতেই থাকতেন লিমা। পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে সোহরাব লিমাকে নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে ফেরদৌসকে তালাক দিতে বাধ্য করে। পরে লিমাকে বিয়ে করে সে শ্বশুরবাড়িতেই বসবাস শুরু করে। বিয়ের ছয় মাসের মাথায় শ্বশুরকে জমি বিক্রি করে দুই লাখ টাকা যৌতুক দিতে চাপ দেয় সোহরাব। এ নিয়ে পারিবারিক কলহের জের ধরে লিমাকে হত্যা করে লাশ গুম করা হয়।
তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে ট্রাইব্যুনালের পেশকার অজিবর রহমান জানিয়েছেন, তৃতীয় স্ত্রী হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়া হয়েছে সোহরাব হোসেন আকনকে। একইভাবে দ্বিতীয় স্ত্রীকে হত্যার দায়ে আগেও মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছিলেন একই আদালতের অপর বিচারক। সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল উচ্চ আদালতে চলমান রয়েছে।
দন্ডপ্রাপ্ত সোহরাব বরিশালের মুলাদী উপজেলার তয়কা গ্রামের মো. লাল মিয়া আকনের ছেলে।