পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় জেলে আসাদ মাঝির জালে ধরা পড়েছে বিরল ও বিষাক্ত দুটি ‘লায়ন ফিশ’। এটি ‘রঙ্গিলা’ বা ‘কুরা মাছ’ হিসেবেও পরিচিত।
সোমবার সকালে মহিপুর মৎস্য বন্দরের মায়ের দোয়া ফিশ আড়তে মাছ দুটি আনা হলে ব্যবসায়ী মো. ছগির আকন সেগুলো কেনেন। মাছ দুটির মোট ওজন প্রায় ৮০০ গ্রাম। রঙিন ডোরাকাটা দাগ, লম্বা কাঁটাযুক্ত পাখনা এবং আকর্ষণীয় গঠনের কারণে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি হয়। মাছ দুটি একনজর দেখতে আড়তে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে।
জেলে আসাদ মাঝি বলেন, ‘গত পরশু কুয়াকাটা উপকূলের গভীর সাগরে জাল ফেললে অন্যান্য মাছের সঙ্গে এই অচেনা মাছ দুটিও ধরা পড়ে। প্রথমে ভেবেছিলাম সাধারণ মাছ, পরে দেখি রং অদ্ভুত আর পাখনাগুলো কাঁটার মতো। তখনই বুঝতে পারি এটা বিরল প্রজাতির কিছু। দেখতে সুন্দর হলেও শুনেছি এটি বিষাক্ত।’
মাছের ক্রেতা মো. ছগির আকন জানান, মাছ দুটি দেখতে আকর্ষণীয় হওয়ায় তিনি সংরক্ষণ করে রেখেছেন। তবে এগুলো খাওয়ার উপযোগী কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এর আগেও মহিপুর বন্দরের মুন্নি ফিশে একই ধরনের একটি লায়ন ফিশ পাওয়া গিয়েছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, লায়ন ফিশ সুন্দর ও রাজকীয় চেহারার কারণে বাংলায় ‘সিংহ মাছ’ নামেও পরিচিত। এর বৈজ্ঞানিক নাম টেরোইস ভলিট্যান্স বা টেরোইস মাইলিজ। এ মাছ মূলত ভারত মহাসাগর, বঙ্গোপসাগর, প্রশান্ত মহাসাগর ও লোহিতসাগরের উষ্ণ পানিতে পাওয়া যায়। সাধারণত ছোট মাছ ও চিংড়ি খেয়ে বেঁচে থাকে। সামুদ্রিক পরিবেশে এটি যেমন দক্ষ শিকারি, তেমনি এর বিষাক্ততা একে গভীর সমুদ্রের ‘রঙিন আতঙ্ক’ হিসেবে পরিচিত করেছে।
ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ডাব্লিউসিএস ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, ‘লায়ন ফিশ দেখতে আকর্ষণীয় হলেও এটি অত্যন্ত বিষাক্ত মাছ। এর পাখনার কাঁটার বিষে মানুষ দংশিত হলে তীব্র ব্যথা, ফোলাভাব এবং কখনো শ্বাসকষ্ট হতে পারে। তাই খালি হাতে এ মাছ ধরা বিপজ্জনক।’
কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা আমার দেশকে বলেন, ‘লায়ন ফিশের পাখনায় বিষ থাকে। কেউ যদি অসতর্কভাবে স্পর্শ করে, তাহলে মারাত্মক প্রতিক্রিয়া হতে পারে। তাই মাছটি ধরতে হলে যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।’
জেডএম