বাকপ্রতিবন্ধী শিশুসন্তানের সামনে থেকে কোনো পরোয়ানা ছাড়াই ভোলায় জামায়াতের নারী কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ২৪ ঘণ্টা আটকে রেখে ৫৪ ধারায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে ।
৫ এপ্রিল রোববার গভীর রাতে ভোলা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের জমজম টাওয়ারের নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ এবং সরকার ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ভোলা জেলা।
লিখিত সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত দাবি করে, ফ্যাসিবাদের আমলে বাংলাদেশের মানুষের বাকস্বাধীনতাসহ সবকিছুই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এখনো সরকার সেই পথেই হাঁটছে। পুলিশের রিপোর্ট অনুযায়ী কোনো ধরনের কারণ ছাড়াই ৫৪ ধারায় সন্দেহভাজনভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে ভোলা পৌরসভা জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মী বিবি সাওদাকে (৩৭) পুলিশ গ্রেপ্তার করে। কারণ জানতে চাইলে পুলিশ কোনো কারণ উল্লেখ করতে পারেনি।
বিষয়টি রহস্যজনক মনে হওয়ায় পুলিশ সারা দিন তাকে থানায় আটকে রেখে ৫৪ ধারায় সন্দেহভাজনভাবে জেলহাজতে পাঠান।
অথচ বিবি সাওদার বাকপ্রতিবন্ধী একটি শিশুসন্তান রয়েছে। যে সন্তান মা ছাড়া অন্য কারো পক্ষে লালনপালন করা সম্ভব নয়। এমন অমানবিক আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ এবং অনতিবিলম্বে মুক্তি দাবি করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ভোলা জেলা।
গোয়েন্দা শাখার এসআই জুয়েল হোসেন খান আদালতে দেওয়া লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, বিবি সাওদা সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছিলেন। কিন্তু কী ধরনের সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড করেছেন, তা উল্লেখ করেননি। এ কারণে বিষয়টি পর্যবেক্ষণের জন্য ৫৪ ধারায় তাকে জেলহাজতে পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়। বিষয়টি অত্যন্ত অমানবিক ও ফ্যাসিবাদী বলে উল্লেখ করে জামায়াত।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভোলা জেলা আমির মাস্টার জাকির হোসাইন, নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা হারুনুর রশিদ, কর্মপরিষদ সদস্য উপাধ্যক্ষ এ এইচ এম ওয়ালিউল্লাহসহ জামায়াত নেতারা।