আমার দেশে সংবাদ প্রকাশের জের
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) অর্থ ও হিসাব দপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সুব্রত কুমার বাহাদুরের ভুয়া পিএইচডি ডিগ্রি ব্যবহার নিয়ে আমার দেশ-এ সংবাদ প্রকাশের পর পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার হুমায়ুন কবীর স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে সুব্রত কুমার বাহাদুরের পিএইচডি ডিগ্রিসংক্রান্ত আবেদন, নথিপত্র ও চাকরির তথ্যাদি যাচাই-বাছাই করে সুনির্দিষ্ট সুপারিশসহ দ্রুত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন সহযোগী অধ্যাপক ড. হাফিজ আশরাফুল হককে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক মেহেদী হাসান সোহাগ, রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল কায়েস এবং সদস্য-সচিবের দায়িত্বে রয়েছেন পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমান।
অফিস আদেশে বলা হয়, অর্থ ও হিসাব পরিচালকের দপ্তরের দায়িত্বে নিয়োজিত অতিরিক্ত পরিচালক সুব্রত কুমার বাহাদুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি ডিগ্রি নথিভুক্তির জন্য কোনো আবেদন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বা সনদপত্র দাখিল না করেই নিজের নামফলক ও দপ্তরের বোর্ডে ‘পিএইচডি’ ডিগ্রি ব্যবহার করেছেন। বিষয়টি নিয়ে দৈনিক আমার দেশ-এ সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর তার পিএইচডি ডিগ্রির বৈধতা যাচাইয়ের স্বার্থে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
অফিস আদেশ অনুযায়ী তদন্ত কমিটিকে তিনটি বিষয়ে অনুসন্ধান করতে বলা হয়েছে—
১. সুব্রত কুমার বাহাদুরের পিএইচডি ডিগ্রির আবেদন, অনুমতি, বেতন-ভাতাসহ সংশ্লিষ্ট সব তথ্য যাচাই-বাছাই করা। ২. চাকরিতে আবেদনের সময় দাখিল করা আবেদনপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত সব সনদপত্র ও কাগজপত্র পরীক্ষা করা। ৩. তদন্ত শেষে সুনির্দিষ্ট সুপারিশসহ প্রতিবেদন রেজিস্ট্রার দপ্তরে শীগ্রই দাখিল করা।
উল্লেখ্য, গত ২৩ জুন আমার দেশ-এ “ববি কর্মকর্তার ভুয়া পিএইচডি” শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে তদন্তে উদ্যোগ নেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এমএইচ