বরিশাল নগরীতে চলাচলকারী থ্রি-হুইলারের যাত্রী সাধারণের পূর্বের নির্ধারিত ভাড়া বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন (বিসিসি)। একই সঙ্গে থ্রি-হুইলারের লাইসেন্স নবায়ন ও বৈধ কাগজপত্র নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থানের কথাও জানানো হয়েছে।
সোমবার নগর ভবনের সভাকক্ষে সিটি কর্পোরেশনের আয়োজিত এক সমন্বয় সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সমন্বয় সভায় বরিশাল জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র জানায়, সম্প্রতি নগরীতে চলাচলকারী গণ পরিবহন থ্রি-হুইলা ও হলুদ অটো রিকশার ভাড়া পূর্বের ভাড়ার চেয়ে দ্বিগুণ হাড়ে আদায় করছিলো সংশ্লিষ্ট চালকরা। এ নিয়ে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ যাত্রীরা। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রতিবাদে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিএম কলেজের সামনে জড়ো হয়ে শতাধিক অটোরিকশা ও সিএনজি আটক করে সেগুলো বিএম কলেজ ক্যাম্পাসের মধ্যে আটকে রাখা হয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কিছুদিন ধরে বরিশাল নগরীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও সিএনজিতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় শুরু হয়। নথুল্লাবাদ-লঞ্চঘাট, নথুল্লাবাদ-চৌমাথা এবং নথুল্লাবাদ-রূপাতলী বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত পূর্বের নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অন্তত ১০/২০ টাকা বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। এর প্রতিবাদ করলে যাত্রীদের লাঞ্ছিতসহ চালকদের নানান কটূক্তি শুনতে হচ্ছে।
অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধে গত ১ সপ্তাহ আগে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হলেও ভাড়া নৈরাজ্য বন্ধে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীরা রোববার সকাল থেকে অটোরিকশা-সিএনজিগুলো আটক করেন।
এদিকে শিক্ষার্থীরা অটো রিকশা আটক করে আন্দোলন শুরু করলে বিষয়টি নিরসনে সোমবার দুপুরে বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনকে নিয়ে জরুরী বৈঠকের আয়োজন করেন বিসিসি প্রশাসক বিলকিস আক্তার জানান শিরীন। বৈঠকে মহানগরীর পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে যাত্রী-সাধারণের স্বার্থ বিবেচনায় থ্রি-হুইলারের বিদ্যমান ভাড়ার হার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পাশাপাশি যেসব থ্রি-হুইলারের লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি, সেগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত সম্মিলিত অভিযান পরিচালনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়ে দেওয়া হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ, বিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী, বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমন, সরকারি বিএম কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. শেখ মো. তাজুল ইসলাম, বিসিসির প্রধান প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবির এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রায়হান উজ জামান।
এছাড়া নগরীর বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থী এবং থ্রি-হুইলার মালিক ও চালক সমিতির নেতৃবৃন্দ সভায় অংশগ্রহণ করেন। সভায় অংশগ্রহণকারীরা নগরীর পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।