এলাকায় আনন্দের জোয়ার
দীর্ঘ ৪২ বছর পর পাকিস্তান থেকে নিজ জন্মভূমি লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার ৩ নম্বর চরমোহনা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাজী বাড়িতে ফিরেছেন নুরু মিয়া কাজী। তাঁর এই প্রত্যাবর্তনে ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীর মাঝে বইছে আনন্দের জোয়ার।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ছোটবেলায় জীবিকার সন্ধানে নুরু মিয়া কাজী দেশ ছেড়ে প্রথমে ইরান যান। সেখানে প্রায় ১০ বছর কাজ করার পর পাকিস্তানে চলে যান এবং সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। পরে তিনি পাকিস্তানে বিয়ে করেন এবং বর্তমানে দুই ছেলে ও তিন মেয়ের জনক।
বিদেশে থাকলেও তিনি জন্মভূমিকে কখনো ভুলে যাননি। প্রথম দিকে নিয়মিত চিঠির মাধ্যমে দেশের বাড়িতে বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। পাশাপাশি তাঁদের জন্য অর্থও পাঠাতেন। তবে পরবর্তী কয়েক বছর নানা কারণে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে আবার কয়েক বছর আগে আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ পুনঃস্থাপন করেন। সেই ধারাবাহিকতায় প্রায় ৪২ বছর পর তিনি আজ নিজ গ্রামে ফিরে আসেন।
এদিকে নুরু মিয়া কাজীর দেশে ফেরার আগেই তিন বছর আগে তাঁর মা মারা যান। মায়ের সঙ্গে শেষবারের মতো দেখা করতে না পারার বেদনা আজও তাঁকে তাড়িয়ে বেড়ায়। দেশে ফিরে মায়ের কবর জিয়ারত করার ইচ্ছার কথাও তিনি স্বজনদের জানিয়েছেন।
দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় পর আপনজনকে ফিরে পেয়ে তাঁর ভাই-বোন, নিকট আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। অনেকেই তাঁকে বরণ করে নেন। এ সময় পরিবারের সদস্যদের চোখে আনন্দের অশ্রু আর ভালোবাসার উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
নুরু মিয়া কাজী বলেন, দীর্ঘদিন পর নিজের মাটিতে ফিরে আসতে পেরে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। দেশের মাটি, মানুষ ও আত্মীয়-স্বজনকে অনেক বেশি মিস করেছি। আজ সবাইকে কাছে পেয়ে নিজেকে খুব সৌভাগ্যবান মনে হচ্ছে।
দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর এই পুনর্মিলন শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, পুরো এলাকার মানুষের কাছেই একটি আবেগঘন ও স্মরণীয় ঘটনা হয়ে থাকবে।