হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

ঈদগাঁওয়ে ২০ গ্রামে ধসের শঙ্কায় ব্রিজ ও পাহাড়

শতাধিক বসতঘরে জলাবদ্ধতা

উপজেলা প্রতিনিধি, ঈদগাঁও (কক্সবাজার)

ছবি: আমার দেশ

কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলায় গত তিন দিন ধরে হওয়া অব্যাহত বৃষ্টির পানি শতাধিক বসতঘরে প্রবেশ করেছে। এছাড়া নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল না থাকায় বিশটিরও অধিক গ্রামের রাস্তা ঘাট জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। অপরদিকে বিরামহীন বৃষ্টির পানিতে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলের পানিতে জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কের ব্রিজ ও জনবসতি পূর্ণ এলাকা পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে।

প্রশাসন কর্তৃক এসব এলাকার জনগণকে সচেতন ও সতর্ক না করলে যে কোনো মুহূর্তে প্রাণহানির মতো ঘটনার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে স্থানীয়রা ।

সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার ঈদগাঁও সদর ইউনিয়ন, জালালাবাদ, ইসলামপুর, ইসলামাবাদ ও পোকখালী ইাউনিয়নের শতাধিক ঘরে পানি, বেশ কিছু গ্রামে জলাবদ্ধতা বিরাজ করছে। এছাড়া একাধিক স্থানে পাহাড় ও ব্রিজ ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জাগিরপাড়া, মন্ডলপাড়া, নং ওয়ার্ডে পাহাড় ধসের শঙ্কা; আলমাছিয়া মাদরাসা সড়ক, মাইজপাড়া, বাজার সড়ক, জাগির পাড়া সড়কসহ পুরো এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে আছে।

ইউপি চেয়ারম্যান সোহেল চৌধুরী জানান, ইউনিয়নের পুরো এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে আছে। এসব এলাকা ও রাস্তা ঘাটে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল না থাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে । বিশেষ করে জাগির পাড়ার ৮-১০টি বসতঘরে পানি প্রবেশ করেছে। পূর্বের পানি চলাচলের জায়গা গুলো বেদখল হয়ে যাওয়ায় মূলত এ অবস্থার সৃষ্টি। তিনি উপজেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় দ্রুত প্রতিকার কামনা করেন।

জালালাবাদ ইউনিয়নের ১,২,৩ ও ৭ নং ওয়ার্ডের পুরেো রাস্তা ঘাট জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বাজার এলাকার বিশাল অংশ অত্র ইউনিয়নের হওয়ায় বৃহত্তর এ বাজারের পানি এসব ওয়ার্ডের রাস্তা ঘাটে জমে আছে। যা সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও বাজারমুখি মানুষের জীবনযাত্রাকে স্থবির করে ফেলেছে।

জালালাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর তাজ জনি জানান, চারটি ওয়ার্ডের রাস্তাঘাট জলাবদ্ধ হয়ে পড়ায় জনগণের দুর্ভোগের শেষ নেই। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ঈদগাঁও নদীর অত্র ইউনিয়নের চারটি স্পটে ভাঙন দেখা দিতে পারে। ইউএনও মঙ্গলবার সরেজমিনে পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি আরো জানান, বিগত তিন বছরের হাটবাজার উন্নয়নে জমে থাকা টাকা যথাসময়ে উন্নয়নে ব্যবহার হলে এ পরিস্থিতি হতো না। এছাড়া ঘনঘন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বদলিকে তিনি উন্নয়নের প্রধান বাঁধা বলে জানান।

এদিকে মঙ্গলবার জালালাবাদের সওদাগর পাড়ায় ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর তাজ জনি ও স্থানীয় ইসলামি ছাত্র শিবির উপজেলা শিবির সভাপতি আবদুল্লাহর নেতৃত্বে পানিবন্দি পরিবারগুলোতে রান্না করা খাবার বিতরণ করেছেন।

ইসলামপুর চেয়ারম্যান মওলানা দেলোয়ার হোসাইন জানান, পুরো ইউনিয়নে অর্ধশতাধিক বসতঘরে পানি প্রবেশ করেছে। দ্রুত এসব পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ও সহায়তা না পৌঁছালে এসব পরিবারের সদস্য দুর্বিসহ জীবনের মুখোমুখি হবে। তিনি এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

ইসলামাবাদ চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম (ভারপ্রাপ্ত) জানান, তিনি মঙ্গলবার সংবাদ পেয়ে জলাবদ্ধ হয়ে পড়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড গজালিয়া এবং ৭নং ওয়ার্ড খোদাইবাড়ীর যে ৭-৮টি বসতঘরে পানি প্রবেশ করেছে তা পরিদর্শন করেছেন। এছাড়া তিনি জানান, বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে পাহাড় ধসের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

পোকখালী ইউপি প্রশাসক ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুর রহমান জানান, তিনি বিভিন্ন সূত্রে জেনেছেন, ইউনিয়ন জুড়ে অনেক বসতঘরে পানি প্রবেশ করেছিল, পরে নেমে গেছে।

এদিকে ঈদগাঁও ইউপির ৯ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য আব্দুল হাকিম জানান, জেলার গুরুত্বপূর্ণ পাহাড়ি জনপদ ঈদগাঁও ,রামু ও পার্বত্য নাইক্যংছড়ি উপজেলার দুই লক্ষাধিক জনগণের নিয়মিত যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে ঈদগাঁও-ঈদগড়-বাইশারি সড়কের ঈদগাঁও অংশের হিমছড়ি ব্রিজটা বিগত তিন দিনের অব্যাহত ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলের পানিতে সড়কের এক পাশে বড় ধরণের গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

অপর দিকে ব্রিজের নিচের ঢালাই অংশ থেকে ব্যাপকহারে মাটি সরে যাওয়ায় যে কোনো মুহূর্তে ব্রিজটি ধসে গিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পাড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ঈদগাঁও উপজেলা প্রকৌশলী (অ. দা.) আল মুইন শাহরিয়ার এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে জানান, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঈদগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মংচিংনু মারমার বলেন, কিছু কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছিল। পরে পানি নেমে যায়। এক কথায় এখনো বন্যা বা জরুরি সহায়তা দেয়ারমত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। যেসব এলাকা এখনো জলাবদ্ধ আছে তা নিষ্কাশনে কাজ চলছে। তিনি আরো জানান, ধসের ঝুঁকিতে থাকা ব্রিজটা রক্ষায় সেখানে মাটি দেওয়া হচ্ছে।

উপজেলার সচেতন নাগরিকদের দাবি, দ্রুত সময়ে জলবদ্ধতা নিরসনে ব্যবস্থা না নিলে পানিবাহিত রোগসহ ডায়রিয়া, ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগের প্রকোপ দেখা দিতে পারে। তারা এ ব্যাপারে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সচেতনতা ও সতর্কতা সৃষ্টিতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এমএইচ

সাজেকে আটকা পড়েছেন সাড়ে চারশ পর্যটক

মতলব উত্তরে ৭ এইচএসসি পরীক্ষার্থী বহিষ্কার, ৫ শিক্ষককে অব্যাহতি

মিরসরাইয়ে ব্রাজিল সমর্থকের নাক ফাটালেন আর্জেন্টিনা সমর্থক

পাহাড় ধসে মাটির নিচে মাদরাসা, নিহত ৫

গাজীপুরে আবারো পোশাক কারখানায় শ্রমিক অসুস্থ, বাড়ছে রহস্য

১৬ ঘণ্টার ব্যবধানে উদ্ধার হলো দুই বার্মিজ অজগর

চট্টগ্রাম–দোহাজারী রেললাইন উঁচু করার পরিকল্পনা, জানালেন রেল প্রতিমন্ত্রী

চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে দুই শিশুর মৃত্যু

মিরসরাইয়ে পানিবন্দি শতাধিক পরিবার, ফসলের ব্যাপক ক্ষতির শঙ্কা

জঙ্গল সলিমপুরে পাহাড় ধসে শিশুর মৃত্যু, মা আহত