প্রতিবাদে মধ্যরাতে অবরোধ সড়ক
কর্ণফুলীর বড় উঠানে জামায়াতে ইসলামীর যুব সংগঠনের নেতাকর্মীদের হামলায় যুবদল ও ছাত্রদলের আট নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন । পাল্টা হামলায় জামায়াতের যুব সংগঠনের এনাম নামের এক কর্মী আহত হন বলে জানা যায়।
শুক্রবার তারাবির নামাজের পর উপজেলার বড় উঠান ফাজিল খাঁর হাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় উপজেলা যুবদলের সদস্য শাহেদুল আলম টিটু, বড় উঠান ইউনিয়ন কৃষক দলের সদস্য মঞ্জুর আলম, ছাত্রদল নেতা মো. ইমন, যুবদল নেতা মো. ফারুক, মানিক, ছাত্রদল নেতা মো. রিয়াদ, মো. রাকিবসহ আরও কয়েকজন আহত হন।
ঘটনার পর রাতে ফাজিল খাঁর হাটের পিএবি সড়কে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের শতাধিক নেতাকর্মী প্রতিবাদ মিছিল বের করেন। পরে কর্ণফুলী জোন সহকারী কমিশনার এসপি ও পুলিশ প্রশাসন এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
পরে রাত ১২টার পর শহীদ মিনারে ফুল দিতে এসে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা কর্ণফুলী উপজেলা পরিষদের সামনে সড়ক অবরোধ করেন।
এ ঘটনার প্রতিবাদে আজ দুপুর ২টায় বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে কর্ণফুলী উপজেলা বিএনপি।
জানা যায়, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দৌলতপুর দীঘিরপাড় ৩ নং ওয়ার্ড ভোটকেন্দ্রে এক হিন্দু ভোটারকে মারধর করেন জামায়াতের এক কর্মী। এ বিষয়ে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়।
এ ঘটনার জের ধরে তারাবির নামাজের পর স্থানীয় জামায়াতের যুব সংগঠনের সেক্রেটারি মো. আলমগীরের নেতৃত্বে যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালিয়ে আটজনের বেশি নেতাকর্মীকে আহত করার অভিযোগ ওঠে। আহতদের পার্শ্ববর্তী আনোয়ারা মেডিকেলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তিনজনকে গুরুতর অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য এস এম ফারুক হোসেন জানান, ‘সংসদ নির্বাচনে হিন্দুপাড়ার সর্বোচ্চ ভোটার দেখে জামায়াতের নেতাকর্মীরা বিশৃঙ্খলা করে। এ ঘটনার রেশ ধরে স্থানীয় যুবদল ও ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী দৌলতপুর জামে মসজিদে নামাজ পড়তে গেলে জামায়াতের যুব সংগঠনের সেক্রেটারির নেতৃত্বে হামলা করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাদের সামনে জামায়াতের কর্মীরা আমাদের কর্মীদের রামদা, কিরিচ আর লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করে। এ ঘটনায় আমরা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।’
কর্ণফুলী জামায়াতের আমির জানান, ‘নির্বাচনের দিন এক হিন্দু ছেলের সঙ্গে মামুন নামে আমাদের এক কর্মীর কথাকাটাকাটি হয়। সেটা তখন মিটমাট হয়ে যায়। কিন্তু যুবদলের টিটু নামের এক নেতার নেতৃত্বে ৫০-৬০ জনের একটি দল মামুনের বাড়িতে হামলা করলে ঘটনার সূত্রপাত হয়। হামলায় এনাম নামের জামায়াতের এক কর্মী আহত হয়েছেন।’
কর্ণফুলী জোনের সহকারী কমিশনার (এসপি) মো. জামাল উদ্দীন চৌধুরী জানান, ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।