হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

পটিয়ায় শিশু জায়হান হত্যার রহস্য উদঘাটন

চাচাকে ফাঁসাতে চিরকুটের নাটক

উপজেলা প্রতিনিধি, পটিয়া (চট্টগ্রাম)

থানা ঘেরাও। ইনসেটে জায়হান। ছবি: আমার দেশ

চট্টগ্রামের পটিয়ায় আলোচিত শিশু মো. জায়হান (৫) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে হত্যাকাণ্ডের শুরু থেকে লাশ উদ্ধারের আগ পর্যন্ত ঘটনার আদ্যোপান্ত। মঙ্গলবার দুপুরে পটিয়া পৌরসদরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্বপাড়া এলাকায় বাড়ির আঙিনায় খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় শিশু জায়হান।

একই দিন রাতে তার বাবা পটিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর পুলিশ তদন্তে নামে। ঘটনার ৩৬ ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার ভোরে বাড়ির পাশের একটি নর্দমা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত সাদিয়া সুলতানা নিহা এবং তার বাবা মো. সাইফুদ্দিন ও মা শাহানুর আক্তারকে আটক করেছে পুলিশ।

ঘটনার শুরু

১৬ জুন মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বাড়ির সামনের রাস্তায় খেলার সময় নিখোঁজ হয় জায়হান। অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাকে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ধারণা করেন, সে হয়তো পুকুরে ডুবে গেছে। এ ধারণা থেকে আশপাশের কয়েকটি পুকুরে তল্লাশি চালানো হয়। ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা পর বাড়ির একটি কক্ষে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির একটি চিরকুট পাওয়া যায়। এতে পরিবারের সন্দেহ আরও বেড়ে যায়। পরে একই দিন রাতে পটিয়া থানায় একটি জিডি করা হয়। এরপর থেকে পুলিশ তদন্ত শুরু করে।

যেভাবে উদ্ধার হলো জায়হানের লাশ

ঘটনার পর পুলিশের কয়েকটি টিম রহস্য উদঘাটনে মাঠে নামে। পুলিশ জানায়, চিরকুটকে কেন্দ্র করেই তদন্ত শুরু হয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কয়েকজন সন্দেহভাজনকে নজরদারিতে আনা হয়। একপর্যায়ে প্রতিবেশী সাদিয়া সুলতানা নিহাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার ভোরে বাড়ির পেছনের একটি নর্দমা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় জায়হানের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে নিহার বাবা মো. সাইফুদ্দিন ও মা শাহানুর আক্তারকেও পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। স্থানীয়দের দাবি, পটিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জুয়েল উদ্দীন এ ঘটনার রহস্য উদঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

হত্যার দায় স্বীকার নিহার

শিশু জায়হানের লাশ উদ্ধারের পর প্রধান অভিযুক্ত সাদিয়া সুলতানা নিহাকে দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। নিহার বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার জায়হান ও নিহা একসঙ্গে খেলছিল। খেলার একপর্যায়ে নিহা তাকে নিজের বাড়ির আঙিনায় নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে যাওয়ার এক থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

হত্যার পর ঘটনা ধামাচাপা দিতে একটি চিরকুট লেখা হয়। প্রথমে প্রতিবেশী এক চাচাকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে চিরকুট লেখা হয়েছিল বলে জানালেও পরে নিজেদের বাঁচানোর জন্যই এ নাটক সাজানো হয় বলে পুলিশকে জানায় নিহা। পুলিশের দাবি, হত্যাকাণ্ডের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিহাই এককভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। পরে বিষয়টি জানতে পেরে তার বাবা মেয়েকে রক্ষা করার চেষ্টা করেন।

হত্যার পর লাশ লুকানোর চেষ্টা

পুলিশ জানায়, নিখোঁজ হওয়ার এক থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যেই জায়হানকে হত্যা করা হয়। এরপর লাশ গোপন করতে প্রথমে একটি সিমেন্টের বস্তা এবং পরে চালের বস্তায় ভরে রশি দিয়ে বেঁধে বাড়ির পেছনের নর্দমায় ফেলে দেওয়া হয়। পরে একটি গাছের ডাল দিয়ে সেটি আড়াল করার চেষ্টা করা হয়। বুধবার সন্ধ্যার দিকে পুলিশ নিহাকে নজরদারিতে রেখে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে। এ সময় নিহার বাবা-মা লাশের বিষয়টি জেনে চিরকুটের নাটক সাজিয়ে প্রতিবেশী এক চাচাকে ফাঁসানো এবং মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা করেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে।

দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে থানা ঘেরাও

বৃহস্পতিবার ভোরে জায়হানের মরদেহ উদ্ধারের পর শত শত মানুষ তার বাড়িতে ভিড় করেন। পরে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে দক্ষিণ গোবিন্দারখীল এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল পটিয়া থানার সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়। বিক্ষোভকারীরা হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। একপর্যায়ে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।

জায়হানের দাফন

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজের পর পটিয়া পৌরসদরের দক্ষিণ গোবিন্দারখীল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে শিশু জায়হানের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এর আগে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্তের কাজ সম্পন্ন করা হয়। জানাজার মাঠে হাজারো মুসল্লি অংশ নিয়ে শিশু জায়হানের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

প্রশাসন যা বলছে

পটিয়া থানার ওসি জিয়াউল হক বলেন, ‘শিশু জায়হান হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। নিহা শিশুটিকে হত্যা করে চিরকুটের নাটক সাজিয়ে প্রতিবেশী এক চাচাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করে। তাকে বাঁচানোর জন্য তার বাবা-মাও সহযোগিতা করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদে নিহা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’ চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, ‘শিশু জায়হানের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি জানার পর থেকেই পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে। কয়েকটি টিম একযোগে কাজ করে ঘটনার দুই দিনের মাথায় রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে।

তবে নিখোঁজ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই তাকে হত্যা করা হয়েছিল, ফলে জীবিত উদ্ধার সম্ভব হয়নি।’ তিনি আরও বলেন, ‘সাদিয়া সুলতানা নিহা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সে কিছুটা একগুঁয়ে স্বভাবের ছিল। অতীতে জায়হানের বাবা তাকে বকাঝকা করেছিলেন। এ ছাড়া তাদের মধ্যে অন্য কোনো বিরোধ ছিল কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে। নিহা একাই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে লাশ গোপনের চেষ্টা করেছে। তাকে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দির জন্য আদালতে পাঠানো হবে।’

এমএইচ

মেহেদির কবর জিয়ারতে অঝোরে কাঁদলেন এমপি সেলিম

নোয়াখালীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মা-ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু

বাঁশখালীতে হাতি সংরক্ষণে জনসচেতনতামূলক উঠান বৈঠক

বাঁশখালীতে ১০ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক ১

অবৈধ গ্যাস ব্যবহারে কোটি টাকার ক্ষতি, দুইজন কারাগারে

যাত্রাবাহী বাস শ্যামলীর ধাক্কায় সুপারভাইজার নিহত

স্কুল হোস্টেলে ছাত্রের মৃত্যু: অধ্যক্ষসহ ১৮ জনের নামে মামলা

পুলিশ-শীর্ষ সন্ত্রাসীর সহযোগীর অডিও ভাইরাল

ফুলের শুভেচ্ছা নিতে নিতে হয়রান দেবিদ্বারের ইউএনও, বিঘ্নিত দাপ্তরিক কাজ

চট্টগ্রামে হঠাৎ থমকে গেছে দুদকের মামলার কার্যক্রম