ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড-পাহাড়তলী-আকবরশাহ আংশিক) আসনের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ধীরগতিতে ভোটগ্রহণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তীব্র শীত উপেক্ষা করে ভোর ৬টা থেকে ভোটাররা লাইন দাঁড়ালেও বেলা ৯টায়ও অনেকে ভোট দিতে পারেননি। ভোটারদের উপচে পড়া ভিড়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে ভোটগ্রহণের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের।
চট্টগ্রাম-৪ আসনের সীতাকুণ্ড পৌরসভার ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, ভোর ৬টা থেকে নারী ও পুরুষ ভোটারদের দীর্ঘ লাইন। নারী ও তরুণ ভোটারদের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি। ভোটকেন্দ্র খোলার আগেই ভোটাররা উৎসবমুখর পরিবেশে বাইরে ভিড় করেছেন। তবে কেন্দ্রের ছয়টি বুথে ভোটগ্রহণ হচ্ছে অত্যন্ত ধীরগতিতে।
ভোটারদের অভিযোগ, তিন ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়ালেও এখনো অনেকে ভোট দিতে পারেননি। সকাল সাড়ে ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হলেও ভোট দিয়েছেন মাত্র অর্ধশতাধিক ভোটার। বাইরে শত শত ভোটার অপেক্ষা করছেন।
এ সময় কথা হয় প্রবীণ ভোটার নুরুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি জানান, দীর্ঘ ১৬ বছর পর তিনি ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছেন। সর্বশেষ ২০০৮ সালে তিনি ভোট দিয়েছিলেন। সারা দেশের মতো তাদের এলাকায় আজ ঈদের আনন্দ বিরাজ করছে।
স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত নেতারা জানিয়েছেন, নারী ও পুরুষ ভোটাররা কেন্দ্রে ভিড় করছেন। কিন্তু ভোটগ্রহণ হচ্ছে অত্যন্ত ধীরে।
এদিকে চট্টগ্রাম-৪ আসনের বাড়বকুণ্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সোনাইছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়, ঘোড়ামারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে অভিযোগ এসেছে, ভোট গ্রহণে দীর্ঘ সময় নিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটারদের সারি দীর্ঘ হচ্ছে।
ভোটাররা জানিয়েছেন, বিগত তিনটি নির্বাচনে তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। ২০১৮ সালে ভোটকেন্দ্রে এসেও অপমান আর লাঞ্ছনা নিয়ে ফিরে গেছেন। এবার উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ হচ্ছে, তাই তারা ভোর থেকেই ভোট দিতে এসেছেন। সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তারা ভোট দিতে পারছেন।
এ সময় কেন্দ্রের বাইরে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের অবস্থান নিতে দেখা গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
যুবাইদিয়া ইসলামী মহিলা ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার তৌহিদুল হাসান জানান, সকাল সাড়ে ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও জাল ভোট প্রতিরোধে একটু সময় লাগছে ভোট গ্রহণের ক্ষেত্রে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটগ্রহণের গতিও বাড়বে।