আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের ১২০টি ওয়ার্ডে ধানের শীষের পক্ষে নিরলস গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আসলাম চৌধুরী। এ প্রচারের প্রতিটি পদক্ষেপে তার পাশে থেকে অনন্য শক্তি ও প্রেরণা হয়ে উঠেছেন সহধর্মিণী লায়ন জামিলা নাজনীন মাওলা।
আসলাম চৌধুরীর নির্বাচনি আসনের পাড়া-মহল্লার আঁকাবাঁকা পথে তার অবিরাম এগিয়ে চলা কেবল ভোট প্রার্থনার দৃশ্য নয়—এটি ত্যাগ, বিশ্বাস ও দীর্ঘ লড়াইয়ের নীরব অথচ দৃঢ় ভাষ্য। মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময়, চোখে চোখ রেখে কথা বলা এবং বারবার উচ্চারিত একটি প্রত্যয়—আপসষ নয়, সংগ্রামই পথ।
গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে যুক্ত থাকার কারণে আসলাম চৌধুরীকে কাটাতে হয়েছে প্রায় দশ বছরের কারাবন্দি জীবন। ২০১৬ সালের ১৫ মে রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হওয়ার পর রাষ্ট্রদ্রোহসহ প্রায় ৭৬টি মামলায় তাকে টানা প্রায় সাড়ে আট বছর কারাগারে থাকতে হয়েছে। এ দীর্ঘ সময়ে শুধু একজন রাজনৈতিক নেতাই নয়, একটি পুরো পরিবারকে সহ্য করতে হয়েছে চরম আর্থিক, মানসিক ও সামাজিক চাপ।
এ কঠিন সময়ে যিনি নীরবে কিন্তু দৃঢ়চিত্তে পাশে থেকেছেন, তিনি লায়ন জামিলা নাজনীন মাওলা। সন্দ্বীপের সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২৪তম ব্যাচের এ শিক্ষিত নারী কেবল একজন সহধর্মিণী নন—তিনি একজন প্রকৃত সহযোদ্ধা। ভোগবিলাস ও ব্যক্তিগত স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে তিনি মানুষের কল্যাণে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন।
দীর্ঘদিন লায়নিজমের সঙ্গে যুক্ত থেকেও প্রচারবিমুখ ও সাদাসিধে জীবনযাপন করা এই নারী চলমান নির্বাচনি গণসংযোগে তার সংযত, যুক্তিনির্ভর ও সাবলীল বক্তব্যের মাধ্যমে এলাকাবাসীর মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার করছেন।
এলাকাবাসীর চোখে তাই আসলাম চৌধুরী আজ শুধু একজন নির্বাচনি প্রার্থী নন—তিনি কারাবন্দিত্ব, নির্যাতন ও আপসহীন রাজনৈতিক সংগ্রামের প্রতীক। আর তার পাশে থাকা নাজনীন মাওলা সেই নীরব শক্তির প্রতিচ্ছবি, যাদের ত্যাগ অনেক সময় প্রচারের আলো ছাড়াই ইতিহাসের অংশ হয়ে যায়।
উল্লেখ, মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সীতাকুণ্ড পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মৌলভী পাড়ায় অনুষ্ঠিত এক উঠান বৈঠকে বক্তব্য দেন আসলাম চৌধুরীর সহধর্মিণী নাজনীন মাওলা।