চট্টগ্রামে ব্যবসায়ীর বাড়িতে গুলিবর্ষণের ঘটনায় বড় সাজ্জাদ বাহিনীর তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তে বেরিয়েছে— কুরআন হাতে প্রতিজ্ঞা করে নতুন সদস্যদের এ বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হতো। দুবাইয়ে অবস্থানরত শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদের কাছে ভিডিও পাঠিয়ে সদস্যপদ নিশ্চিত করা হতো।
মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী।
গ্রেপ্তার তিনজন হলেন—মোহাম্মদ আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ওরফে রিমন, মনির এবং সায়েম। এর মধ্যে রিমন ২০০০ সালের চাঞ্চল্যকর এইট মার্ডার মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি।
পুলিশ জানায়, রিমনের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়—নতুন সদস্যরা কুরআন হাতে নিয়ে সাজ্জাদ বাহিনীর প্রতি আনুগত্যের প্রতিজ্ঞা করছেন। ভিডিওতে এক যুবককে বলতে শোনা যায়, কুরআনের ওপর হাত রেখে বললাম, আমার জীবন আজ থেকে সাজ্জাদ ভাইয়ের হাতে… মরলেও সাজ্জাদ ভাইয়ের সঙ্গে বেইমানি করব না।
এ ভিডিও দুবাইয়ে থাকা সাজ্জাদের কাছে পাঠিয়ে সদস্যপদ ‘অনুমোদন’ নিতেন রিক্রুটরা। নিরাপত্তার কারণে ভিডিওতে থাকা ব্যক্তির মুখ ব্লার করা ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে চন্দনপুরা এলাকায় স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমানের বাসায় মুখোশধারী চার ব্যক্তি গুলিবর্ষণ করে। ব্যবসায়ী দাবি করেন— দুবাইয়ে থাকা সাজ্জাদ দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে ১০ কোটি, পরে ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করছিলেন। চাঁদা না পাওয়ায় জানুয়ারিতেও বাসায় গুলি করা হয়। ২০ দিন আগে হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় হুমকি দেয়া হয়—“ওয়েট অ্যান্ড সি”।
সিসিটিভি চিত্রে দেখা যায়, গুলিবর্ষণে ব্যবহৃত ছিল পিস্তল, এসএমজি, চায়নিজ রাইফেল ও শটগান।
উদ্ধার হলো থানা লুটের অস্ত্র
অভিযানে রিমনের তথ্যের ভিত্তিতে পাহাড়তলী থানা থেকে লুণ্ঠিত একটি বিদেশি রিভলভার ও ৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার হয়।
পরবর্তী অভিযানে মনিরের দেখানো মতে উদ্ধার হয় ডবলমুরিং থানায় লুট হওয়া একটি ব্রাজিলিয়ান টরাস ৯ মিমি পিস্তল।
সায়েমের তথ্য অনুযায়ী, খুলশী এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় একটি এসএমজি, দুটি ম্যাগাজিন ও ৫০ রাউন্ড গুলি।
পুলিশ বলছে—এই অস্ত্রগুলোই চন্দনপুরায় গুলিবর্ষণের ঘটনায় ব্যবহৃত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ব্যালিস্টিক পরীক্ষা শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ওয়াহিদুল হক জানান, বড় সাজ্জাদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ রয়েছে। গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধেও হত্যা, ডাকাতি ও অস্ত্র আইনে একাধিক মামলা আছে।
তিনি বলেন, পলাতক অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তার ও বাকি অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এদিন রাতে রমজান উপলক্ষে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে কোতোয়ালি থানা এলাকায় তিন ছিনতাইকারী—মারুফ হোসেন তুষার, বাবু ও মেহেদী হাসানকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। সিএমপির বিভিন্ন থানায় তাদের বিরুদ্ধে মোট ১৪টি মামলা রয়েছে।