রাঙামাটিতে কাপ্তাই হ্রদে রোববার সকালে ত্রিপুরা, চাকমা ও মারমা সম্প্রদায়ের মানুষ ফুল ভাসিয়ে শুরু করেছে তিন দিনের বাংলা বর্ষবরণ ও বিদায় উৎসব। সকালে শহরের গর্জনতলীতে ত্রিপুরা, রাজবাড়ি ঘাটে চাকমা সম্প্রদায়ের মানুষ গঙ্গাদেবীর উদ্দেশ্য কাপ্তাই হ্রদে ফুল নিবেদন করেন।
এ সময় নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষরা নিজস্ব পোশাকে সজ্জিত হয়ে উৎসবে অংশ নেয়। ফুল ভাসানো শেষে কাপ্তাই হ্রদের পাড়ে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও অতিথি আপ্যায়ন চলে।
গর্জনতলীতে ত্রিপুরা কল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বৈসুক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য সাগরিকা রোয়াজা।
এ সময় তিনি বলেন, ঐতিহ্যবাহী বৈসুক উৎসবের মাধ্যমে পাহড়ের সকল সম্প্রদায়ের মানুষ সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে। উৎসব পাহাড়ি বাঙালিদের মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে। প্রতিবছর এ উৎসবের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের নির্বাচিত সম্প্রদায়গুলো তাদের কৃষ্টি কালচার চর্চা করে এবং দেশ বিদেশে তুলে ধরে।
রাজবাড়ী ঘাটে অনুষ্ঠান আয়োজন করে বিজু, বিষু, বিহু, সাংগ্রাই, সাংক্রান ও পাতা উদযাপন পরিষদ। শহরের কেরানি ঘাটে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের মানুষ ফুল ভাষায়। তিন দিনের উৎসবে আজ রবিবার ছিলো ফুল বিজু। আগামীকাল অনুষ্ঠিত হবে মূল বিজু। মূল বিজুর প্রধান আকর্ষণ ঐতিহ্যবাহী পাজন। পাজন একটি মিশ্রিত শব্বজি। চৈত্রের সব ধরনের শব্বজি দিয়ে পাজন রান্না করা হবে নৃ-গোষ্ঠীদের প্রতিটি ঘরে ঘরে।
এছাড়াও ঐতিহ্যবাহী পিঠা-পুলি ও খাবার দিয়ে অতিথি আপ্যায়ন হবে মূল বিজুর দিন। এর পরের দিন পালিত হবে গজ্জাপজ্জা। এদিন বিভিন্ন ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের পাশাপাশি বাংলা নববর্ষের অনুষ্ঠানে শামিল হবে নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ। এদিন রাঙামাটি জেলা প্রশাসন বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে আনন্দ শোভাযাত্রা বের করবে।
এদিকে এই গোষ্ঠীদের প্রধান এ সামাজিক উৎসবকে ঘিরে গত সপ্তাহব্যাপী পাহাড়ের আনাচে কানাচে চলে নানা অনুষ্ঠান। মডেল কর্মসূচিতে পুরো পার্বত্য চট্টগ্রাম ছড়িয়ে পড়ে উৎসবের আমেজ। নৃ-গোষ্ঠীর সম্প্রদায়ের মানুষ ছাড়াওক স্থানীয়রা এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত পর্যটকরা ঐতিহ্যবাহী এই উৎসবে সামিল হয়। ফলে উৎসব পরিণত হয় সার্বজনীন মিলন মেলায়।
শনিবার রাঙামাটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহ্যবাহী বলে খেলা। যেখানে পাহাড়ে বাঙালি সব ধর্মের মানুষের ঢল নামে। চট্টগ্রাম থেকে আসা সংবাদ কর্মী মঞ্জু বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী উৎসব দীর্ঘদিনের, এ উৎসবে সমতলের বাঙালিরাও এসে অংশ নিয়ে প্রমাণ করে বাংলাদেশ সম্প্রীতির দেশ।
স্থানীয় বাসিন্দা মিনারা এরশাদ জানান, বাঙালিদের অনুষ্ঠানে পাহাড়িরা যেভাবে অংশ নেয় ঠিক প্রতিবছর পাহাড়িদের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে আমরা বাঙালিরা অংশ নিয়ে থাকি। সম্প্রীতির নতুন বাংলাদেশ গড়তে এ ধারা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।