নারী কেলেঙ্কারি, দুর্নীতি ও অসদাচরণের অভিযোগে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) বন্দর ও পরিবহন বিভাগের পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি ঢাকার বিভিন্ন উচ্ছেদ অভিযানের কারণে বেশ আলোচিত-সমালোচিত ছিলেন।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. মুহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে মঙ্গলবার (২৩ জুন) তাঁকে বরখাস্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এক নারীর সাথে বিআইডব্লিউটিএর বন্দর পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিনের পরকীয়া ও অনৈতিক সম্পর্কের একটি ভিডিও ফুটেজ সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ঘটনা এবং নানা দুর্নীতির অভিযোগে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
ভিডিওটিতে দেখা গেছে, এ কে এম আরিফ উদ্দিন একটি কক্ষে এক নারীর সাথে আপত্তিকর অবস্থায় আছেন এবং স্থানীয় লোকজন তাকে হাতেনাতে আটক করেন। ওই সময় ভিডিওটি ধারণ করা হয়।
সূত্র আরও জানায়, সে সময় বিষয়টি ১০ লাখ টাকায় রফাদফা হলেও পরবর্তীতে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
সাময়িক বরখাস্তের অফিস আদেশে বলা হয়েছে, “বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের পরিচালক (বন্দর ও পরিবহন বিভাগ, ঢাকা)-এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে (সোশ্যাল মিডিয়া) নারী কেলেঙ্কারি, দুর্নীতি ও অসদাচরণের অভিযোগের ভিডিও ক্লিপ প্রকাশিত হওয়ায় কর্তৃপক্ষের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের কর্মচারী চাকরি প্রবিধানমালা, ১৯৯০-এর বিধি ৩৫ (খ) ও (ঘ) লঙ্ঘনের কারণে বিধি ৪১(১) মোতাবেক জনাব এ কে এম আরিফ উদ্দিন, পরিচালক-কে কর্তৃপক্ষের চাকরি হতে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।”
আদেশে আরও বলা হয়, সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি মোতাবেক খোরাকি ভাতা প্রাপ্য হবেন। তবে এই সময়ে তাকে কর্তৃপক্ষের প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগে হাজিরা প্রদান করতে হবে। হাজিরা প্রদান সাপেক্ষেই কেবল এই খোরাকি ভাতা পরিশোধ করা হবে।
এদিকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের পরিচালক মো. সাইফুল ইসলামকে নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসেবে বন্দর ও পরিবহন বিভাগের পরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, অভিযুক্ত আরিফ উদ্দিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অন্তত তিনটি অভিযোগ বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।