চট্টগ্রামে পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ফ্ল্যাট নিয়ে ভাই-বোনের মধ্যে বিবাদ গড়িয়েছে আদালতের বারান্দায়। ১১ বছর ধরে পাঁচটি ফ্ল্যাটের ভাড়া আত্মসাৎ করা, নির্মাণাধীন অ্যাপার্টমেন্টের চুক্তি থেকে বাদ দেওয়া, হত্যার হুমকি, প্রতারণাসহ বেশ কিছু অভিযোগে আদালতে বোনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ভাই।
গত ৩ জানুয়ারি আতাউল করিম বাদী হয়ে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে খুলশী থানাকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার বাদী ভুক্তভোগী আতাউল করিমের অভিযোগ, ২০১১ সাল থেকে ১৩৬ মাসের ভাড়া আদায় করে পারিবারিক আপস বণ্টননামামূলে বিতরণ করেননি তার বোন শাহিনা আক্তার নাহিদ। শুধু তাই নয়, নতুন একটি নির্মাণাধীন ভবনের চুক্তিতে ইসলামি শরিয়াহ মতে ফ্ল্যাট বণ্টন করা হচ্ছে না। নিজেদের মতো করে বণ্টন করেই বঞ্চিত করার পাঁয়তারা করা হচ্ছে। এছাড়া গত ১১ বছরের ১৩৬ মাসের ভাড়া প্রায় ১৭ লাখ টাকা বারবার ফেরত চাইলেও বুঝিয়ে দেননি শাহিনা আক্তার নাহিদ (৪৩)।
তার অভিযোগ, মামলায় পুলিশের কোনো সহযোগিতা পাচ্ছেন না তিনি।
মামলা সূত্রে জানা যায়, বাদীর পারিবারিক সম্পত্তির ওপর ২০১১ সালে নগরীর পূর্ব নাসিরাবাদ মৌজায় ৪৬.৩১ শতাংশ ভূমিতে ইকুইটি প্রপার্টিজের মাধ্যমে ইকুইটি অর্ণব নামে একটি নয়তলা ভবন নির্মাণ করা হয়। ওই ভবনে আতাউর করিমের পিতা মরহুম ছালেহ আহমেদের ১১ জন ওয়ারিশ ১৮টি ফ্ল্যাট বুঝে পান ডেভেলপার কোম্পানি থেকে। এর মধ্যে প্রত্যেকে একটি করে ফ্ল্যাট বুঝে পান। দুটি বিক্রি করে দেওয়া হয়। ছালেহ আহমেদের স্ত্রী অর্থাৎ, তাদের মায়ের মৃত্যুর পর মোট পাঁচটি ফ্ল্যাট কমন ফ্ল্যাট হিসেবে রাখা হয়।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, আপস বণ্টননামা অনুসারে পরিবারের তিনজন পরিচালনার দায়িত্বে থাকার কথা থাকলেও সবার সিদ্ধান্তে তার বোন শাহিনা আক্তার নাহিদকে সব পরিচালনা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি প্রতি মাসে ভাড়ার টাকা আতাউল করিমকে হস্তান্তর করেননি। ২০১১ সালের মার্চ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ১৩৬ মাসের ভাড়া তাকে দেওয়া হয়নি, যার মূল্য ১৬ লাখ ৩২ হাজার টাকা।
এতে আরো উল্লেখ করা হয়, ২০২৩ সালের মে মাসে শাহিনা আক্তার নাহিদ আতাউল করিমের কাছে ২০২৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সময় প্রার্থনা করলে তিনি তা মনে নেন। কিন্তু এর পরও দুই বছর চলে গেলেও টাকা পরিশোধ করা হয়নি। জানতে চাইলে নানা অজুহাতে তিনি কালক্ষেপণ করেন। গত বছরের ২ ডিসেম্বর তাকে লিগ্যাল নোটিশ দিলে তিনি বাদীর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এমনকি চলতি বছরের ২ জানুয়ারি ফ্ল্যাটে গিয়ে যোগাযোগ করলে তিনি টাকা দিতে অস্বীকার করেন এবং হত্যার হুমকি দেন।
এদিকে আতাউল করিমের অভিযোগ, তাদের আরেকটি পারিবারিক জমিতে এরিয়াল প্রপার্টিজ নামে ডেভেলপার কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। নির্মাণাধীন ওই ভবনের ফ্ল্যাট বণ্টন নিয়েও তার বোন নাহিদ ছলছাতুরীর আশ্রয় নিয়েছেন। ইসলামী শরীয়াহমতে তাকে ফ্ল্যাট দেওয়া হচ্ছে না। তাদের দুই ভাই মারা গেছেন। এর মধ্যে এক ভাইয়ের ফ্ল্যাট তিনি হেবা হিসেবে পেয়েছেন দাবি করে ভোগদখলে আছেন, সেই হেবাও আইনসংগত নয় বলে দাবি আতাউলের। আর একজন বোন শারীরিকভাবে অক্ষম বিধায় তার ফ্ল্যাটও নাহিদ ভোগদখলে করছেন বলে অভিযোগ আনেন আতাউল।
এর আগে গত বছরের ১৪ জুলাই শাহিনা আক্তার নাহিদ, মো. ফজলুল করিম, পারভীন আক্তারের (জবা) বিরুদ্ধে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের মামলা করেন তাদের অপর ভাই মো. জিয়াউল করিম। সেই মামলায়ও তিনি ভাড়া আদায় করে বুঝিয়ে না দেওয়া এবং ফ্ল্যাট প্রবেশে বাধা দেওয়া ও হত্যার হুমকির অভিযোগ তুলেন। একই সঙ্গে তিনিও বিবাদীর বিরুদ্ধে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা গায়ের জোরে ভোগ করছেন বলেও অভিযোগ আনেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শাহিনা আক্তার নাহিদ বলেন, সব অভিযোগ মিথ্যা। তিনি ১১ বছর ধরে টাকা পেয়েছেন। আমি ভবন পরিচালনার দায়িত্বে এসেছি ২০২৩ সালের পরে। সবকিছু আমাদের সব ভাই-বোনের অংশগ্রহণে মিটমাট হয়ে গেছে। এ সময় তিনি ভাই-বোনের মধ্যে বিবাদের জন্য ভগ্নিপতি আলী খানকে দায়ী করেন। আলী খানের প্ররোচণায় আমার ভাই আমার বিরুদ্ধে মামলা করেছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই এনামুল হক বলেন, আমি কোনো হয়রানি করিনি। আমি তাকে পরামর্শ দিয়েছি যেন আরো দুয়েকজন সাক্ষী তিনি হাজির করেন। কেন না ,তিনি মামলায় শুধু তার স্ত্রীকে সাক্ষী করেছেন।