হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

অলস পড়ে থাকা অতিথিশালা নিয়ে বিপাকে সরকার

উপজেলা প্রতিনিধি, আনোয়ারা (চট্টগ্রাম)

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী টানেলের আনোয়ারা প্রান্তে ৪৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত অতিথিশালাটি দীর্ঘদিনেও কোনো কাজে আসছে না । অলস পড়ে আছে শত শত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত রিসোর্টটি । বিপুল অর্থে নির্মিত এই অতিথিশালা নিয়ে বিপাকে পড়েছে সরকার।

ইজারা দিতে তৃতীয়বারের মতো দরপত্র আহ্বান করেছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। এর আগে গত বছরের জুলাই ও সেপ্টেম্বরে ২৯ বছর মেয়াদে অতিথিশালাটি ইজারা দেওয়ার জন্য দুবার আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। তবে কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠান এতে সাড়া দেয়নি। স্থানীয় দুই থেকে তিনটি প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখালেও তাদের প্রস্তাবিত দর সেতু কর্তৃপক্ষের প্রাক্কলিত দরের চেয়ে কম হওয়ায় তা গ্রহণ করা হয়নি।

সেতু বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, অতিথিশালাটি রাষ্ট্রীয় সম্পদ। প্রথম ও দ্বিতীয় দফায় চাহিদামতো দর না পাওয়ায়, সর্বোচ্চ রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যে তৃতীয়বারের মতো দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

নিলামের মতো প্রক্রিয়া অবলম্বন করে দু-একবার যাচাইয়ের মাধ্যমে সর্বোচ্চ উপযুক্ত দর পেতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী, নির্বাচিত ইজারাদার অতিথিশালার সব স্থাপনা ‘যেমন আছে’ ভিত্তিতে হস্তান্তর করা হবে। চুক্তি অনুযায়ী ওই সম্পত্তি পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং বার্ষিক ন্যূনতম চার কিস্তিতে ভাড়া পরিশোধ করবেন ইজারাদার।

অতিথিশালার রুম সার্ভিস, খাবার, ভ্রমণ, সম্মেলন, স্পা ইত্যাদি সেবা চালু করে ইজারাদার মুনাফা অর্জন করবেন এবং এসব সেবার মূল্য নির্ধারণে পূর্ণ স্বাধীনতা পাবেন। তবে দর্শনার্থী বাড়াতে কোনো নতুন নির্মাণ বা কাঠামোগত পরিবর্তনের জন্য ইজারাদারকে সেতু কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে। কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ প্রকল্পে যে জায়গায় অতিথিশালা নির্মাণ করা হয়েছে, সেটাকে বলা হয় ‘সার্ভিস এরিয়া’। প্রকল্পের শুরুতে সার্ভিস এরিয়া ছিল না। মাঝপথে তা যুক্ত করে প্রায় ৭২ একর জায়গাজুড়ে তৈরি করা হয়েছে নানা স্থাপনা।

অলস পড়ে আছে সাড়ে ৪০০ কোটি টাকায় নির্মিত রিসোর্টটি। লোকসানে থাকা কর্ণফুলী টানেলের সঙ্গে এই অতিথিশালাটি নিয়েও সরকার বিপাকে রয়েছে।

পারকি সৈকতসংলগ্ন সমুদ্র ঘেঁষে গড়ে তোলা এই অতিথিশালা সাত তারকা মানের। এখানে রয়েছে একটি ভিআইপি বাংলো। অত্যাধুনিক ও সুসজ্জিত এ বাংলোটি প্রায় পাঁচ হাজার বর্গফুট আয়তনের। এটি ছয় কক্ষবিশিষ্ট। আছে একটি সুইমিংপুলও। ভিআইপি এ বাংলো ছাড়াও অতিথিশালায় রয়েছে আরো ৩০টি বাংলো। রয়েছে ৪৮টি মোটেল মেস। কর্ণফুলী টানেল প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা হয়েছে এ বিলাসবহুল অতিথিশালা। এতে খরচ হয়েছে ১০ হাজার ৩৮৯ কোটি টাকা, যার সিংহভাগই ঋণ হিসেবে বাংলাদেশকে দিয়েছে চীন।

২০২৩ সালের ২৯ অক্টোবর কর্ণফুলী টানেল যান চলাচলের জন্য চালু করা হলেও দীর্ঘদিন অলস পড়ে আছে অতিথিশালা। এটি বাণিজ্যিক খাতে ইজারা দিয়ে টানেল প্রকল্পে রাজস্ব বাড়ানোর উদ্যোগ সেতু কর্তৃপক্ষের।

জানতে চাইলে কর্ণফুলী টানেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সৈয়দ রজব আলী বলেন, ‘অতিথিশালা নির্মাণের পর থেকে এখনো পর্যন্ত চালু করা হয়নি। এটি চালুর জন্য জনবল নেই। এজন্য সরকারের সিদ্ধান্তে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের জন্য এটি ইজারা দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। আগামী ১৩ জুলাই টেন্ডার জমা নেওয়া হবে। এরপর ২৯ বছরের জন্য সর্বোচ্চ দরদাতার কাছে এটি ইজারা দেওয়া হবে।’

নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের বিচার শেষ হয়নি এক যুগেও

দেড় শতাধিক মামলায় চার্জশিট মাত্র একটিতে

জাহাজ ভাঙা শিল্পে নতুন নেতৃত্ব, সভাপতি মহসিন চৌধুরী

চট্টগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় ২ মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু

জুলাই গণহত্যার বিচার ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নিয়ে সরকার প্রতারণা করছে

চকরিয়ায় ২০ হাজার পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

গণমাধ্যমের সার্বিক উন্নয়নে কমিশন গঠন করবে সরকার

লক্ষ্মীপুরে সালিশ বৈঠকে বৃদ্ধকে গুলি

চট্টগ্রামে একদিনে তিন লাশ উদ্ধার

জঙ্গল সলিমপুরের আদলে টেকনাফের বাহারছড়ায় যৌথ অভিযানের পরিকল্পনা