হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

বাঁশখালীর ১২১ আশ্রয়কেন্দ্রের ১৯টি নদীগর্ভে

মুহিব্বুল্লাহ ছানুবী, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম)

বাঁশখালীর ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র ও বিলীনের পথে সাইক্লোন সেন্টার। ছবি: আমার দেশ

চট্টগ্রামের বাঁশখালীর ১২১টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রের মধ্যে ২৮টিই ঝুঁকিপূর্ণ এবং নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে ১৯টি। জনসংখ্যার তুলনায় কম হওয়ায় আরো নতুন আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন জরুরি হয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলে ঘটে যাওয়া প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে বাঁশখালীতে অন্তত ৩৫-৪০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। পরে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলার জন্য বিদেশি সংস্থা সিসিডিবি, হিড বাংলাদেশ, সৌদি আরব, কারিতাস, জাপান, জাইকা, বিশ্বব্যাংক, রেড ক্রিসেন্ট, আইডিএসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থা ১৪ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ১২১টি সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ করে।

উপজেলার উপকূলীয় এলাকা ছনুয়া, গন্ডামারা, শেখেরখীল, খানখানাবাদ, সাধনপুর, বাহারছড়া, সরল, কাথারিয়া ও পুঁইছড়িতে সরেজমিন দেখা গেছে, ২৮টি আশ্রয়কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এদিকে, ঘূর্ণিঝড়ের ৩৫ বছর পরও সংস্কার না হওয়ায় উপকূলীয় এলাকার কিছু কিছু আশ্রয়কেন্দ্র ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। চুরি হয়ে যাচ্ছে অধিকাংশ আশ্রয়কেন্দ্রের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, আসবাবপত্র, দরজা-জানালাসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র। অভিযোগ রয়েছে, দুর্যোগের সময় অধিকাংশ আশ্রয়কেন্দ্র প্রভাবশালীদের দখলে থাকে। ফলে ওই সব আশ্রয়কেন্দ্র গরিব ও অসহায় মানুষের উপকারে আসে না।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বেশিরভাগ ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ি হিসেবে ব্যাবহার করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের বিপদ সংকেত দেওয়া হলেও কিছু কিছু আশ্রয়কেন্দ্র তালাবদ্ধ থাকায় সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। কদমরসুল, রাতাখোর্দ্দ গ্রাম, প্রেমাশিয়া, খানখানাবাদ ও পুকুরিয়ায় কমপক্ষে ১৯টি সাইক্লোন শেল্টার সাগরগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। কিছু কিছু বিলীন হওয়ার পথে।

বাঁশখালীর ছনুয়া ইউপির তোতকখালী এলাকার বাসিন্দা ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মুফিজুর রহমান আশিক বলেন, ১৯৯১ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা বাঁশখালী। এই বাঁশখালীর উপকূলীয় আটটি ইউনিয়নে প্রায় তিন লাখ মানুষের বসবাস হলেও জনসংখ্যার তুলনায় এখানে খুবই কম সাইক্লোন শেল্টার বা ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মিত হয়েছে। ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের ৩৫ বছর পরও এখানে পর্যাপ্ত সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ না হওয়ায় তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে অবিলম্বে এখানে কমপক্ষে আরো ৩০-৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

কদমরসুলের একটি আশ্রয়কেন্দ্র সবার চোখের সামনে সাগরগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সাগরপাড়ে কোটি কোটি টাকায় নির্মিত ওই সব আশ্রয়কেন্দ্র রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো উদ্যোগ নেই।

প্রবীণ বিএনপি নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান আবদুস ছবুর চৌধুরী বলেন, ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের পর তখনকার প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দুর্গত মানুষের আশ্রয়ের জন্য বিভিন্ন বন্ধুপ্রতিম দেশ ও দাতা সংস্থার কাছে আবেদন করে এসব আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের ব্যবস্থা করলেও যথাযথ তদারকির অভাবে বর্তমানে আশ্রয়কেন্দ্রগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

ছনুয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা রেজাউল হক চৌধুরী বলেন, ২০১৯ সালের জুন মাসে জরাজীর্ণ ৯টি আশ্রয়কেন্দ্র সংস্কারের জন্য এক কোটি ১০ লাখ চার হাজার ৬৫১ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। সে সময় ৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে কোনোরকম সংস্কার করা হলেও আরো ২৮টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ থেকে যায়।

পুঁইছড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তারেকুর রহমান বলেন, ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর ছাদ নষ্ট হয়ে দরজা-জানালা ভেঙে গেছে। ফ্লোরে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়েছে। তিনি এসব সংস্কারে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুরুল আমীন বলেন, যেহেতু আমি নতুন যোগদান করেছি, কোথায় কী প্রয়োজন তা সরেজমিন তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

নিখোঁজের ১১ দিনেও খোঁজ মিলেনি ছেলেসহ গৃহবধূর

জামায়াতপন্থি আইনজীবীদের চট্টগ্রাম বার নির্বাচন বর্জন

পরশুরামে কহুয়া নদীতে ভারতের বাঁধ নির্মাণ শুরু

ইজারা হয়নি চসিকের পাঁচ পশু হাটের

কুমিল্লা-চাঁদপুর মহাসড়কে বাস চলাচল বন্ধ

৪০ হাজার ইয়াবাসহ বিএনপি নেতা ও স্ত্রী আটক

ফ্যামিলি কার্ড নয়, সরকারের কাছে জাস্টিস কার্ড চাই: হাসনাত আব্দুল্লাহ

ছাত্রী হলে আপত্তিকর চিত্র অঙ্কন, মধ্যরাতে উত্তাল নোবিপ্রবি

লামায় চালককে জখম করে সিএনজি ছিনতাই

কুমিল্লায় সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় মাদক কারবারি গ্রেপ্তার