সাগরপথে মালয়েশিয়া পাচারে জড়ো করা ৬৬ বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নাগরিককে উদ্ধার করেছে পুলিশ। ওই সময় মানব পাচারকারী চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, অভিযানকালে পাচারকারী চক্রের আরও অন্তত ২২ জন পালিয়ে গেছে।
রোববার মধ্যরাতে টেকনাফ মডেল থানা পুলিশ এই অভিযান চালায়। কক্সবাজার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অভিযানকালে ৪টি রাইফেলের গুলি, ১টি দেশীয় রাম দা ও ১টি কিরিচ উদ্ধার করা হয়। টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের কচ্ছপিয়া মধ্যম কবরস্থান সংলগ্ন পাহাড়ের ওপর আবদুল আমিন নামের এক পাচারকারীর অস্থায়ী তাবু ঘর রয়েছে। এখান থেকে ওই ৬৬ জনকে উদ্ধার করা হয়।
এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানিয়েছেন কক্সবাজার জেলা পুলিশের সর্বোচ্চ কর্মকর্তা রহমত উল্লাহ। পাচারকারী চক্র ১০-১৫ দিন ধরে ধাপে ধাপে নারী, পুরুষ ও শিশুদের এনে সাগরপথে মালয়েশিয়া পাচারের জন্য ঘটনাস্থলে জড়ো করেছিল। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলো পালিয়ে যাওয়া পাচারকারী বাহারছড়া ইউনিয়নের কচ্ছপিয়া এলাকার নুর হোসেনের ছেলে কেফায়েত উল্লাহর। তারা উদ্ধার হওয়া কিরিচ ও রাম দা নিয়ে পাচারের জন্য আটকে রাখা লোকজনকে পাহারা দিত এবং ভয়ভীতি দেখাত।
উদ্ধারকারীদের মধ্যে ১৮ জন পুরুষ, ১১ জন নারী ও ৩৭টি শিশু রয়েছে। এদের মধ্যে ৭ জন বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার বাসিন্দা এবং অন্য ৫৯ জন মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা। যারা উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোয় বসবাস করেন।