চট্টগ্রাম-বরিশালে আ.লীগ কার্যালয় খুলেছে নেতাকর্মীরা
দেশের বিভিন্ন স্থানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বন্ধ অফিস খুলছে দলটির নেতাকর্মীরা। কোথাও ব্যানার টাঙানো, কোথাও জাতীয় পতাকার সঙ্গে দলীয় পতাকা উত্তোলনসহ শেখ মুজিবের ভাস্কর্য ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করে দলীয় স্লোগান দিতে দেখা গেছে তাদের। এর মধ্যে চট্টগ্রামে থানার সামনে কার্যালয় খোলা ও গভীর রাতে বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে প্রবেশ করে ব্যানার লাগিয়েছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
জানা যায়, বরিশাল মহানগরীতে কোনো মিছিল বা স্লোগান ছাড়াই গত সোমবার নগরীর সোহেল চত্বরে দলীয় কার্যালয়ে এসে ‘শেখ হাসিনা আসবে বাংলাদেশ হাসবে’ লেখা ব্যানার টাঙিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন তারা। তবে গতকাল মঙ্গলবার সকালে টাঙানো সেই ব্যানার আর দেখা যায়নি। কে বা কারা দলটির কার্যালয়ে সেটি সরিয়ে নেয়। এদিকে চট্টগ্রামে থানার সামনে আ.লীগের কার্যালয় খোলা নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিব হোসেন খানের সমর্থকরা সোমবার গভীর রাতে নগরীর সোহেল চত্বর জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে আসেন। এসময় তারা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের পশ্চিম পাশে বড় একটি ব্যানার টাঙিয়ে স্থান ত্যাগ করেন।
এ সক্রান্ত একটি ভিডিও এ প্রতিবেদকের হাতে রয়েছে। তবে ছাত্রলীগের কোন কোন নেতা বা কর্মী ব্যানারটি টাঙিয়েছে ভিডিওতে তা দেখা যায়নি। ব্যানারে লেখা ছিলÑশেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে এবং সৌজন্যে রাজিব হোসেন খান।
এদিকে রাতের আঁধারে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ব্যানার টাঙানো এবং সকাল হতেই তা অপসারণ নিয়ে নগরজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন শুরু হয়।
এ বিষয়ে বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়া উদ্দীন সিকদার আমার দেশকে বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। যেহেতু আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ। তাই এ বিষয়গুলো প্রশাসনই দেখবে।
চট্টগ্রামে থানার সামনে কার্যালয় খোলা নিয়ে তোলপাড়
এর আগে চট্টগ্রামে গত সোমবার বিকেলে নগরীর নিউ মার্কেট মোড় সংলগ্ন দোস্ত বিল্ডিংয়ে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে দলের সাইনবোর্ড টাঙিয়ে প্রকাশ্যে আসেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলটির নেতাকর্মীরা। শুধু তাই নয়, একই সময়ে লালদীঘির পাড়ের পুলিশ কমিশনার অফিসের নিচে একটি দেওয়ালে শেখ মুজিবের ভাস্কর্য ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করে জয়বাংলা স্লোগান দেন কয়েকজন যুবক। আধাঘণ্টার বেশি সময় ধরে প্রকাশ্য দিবালোকে এ কাজ চললেও পুলিশের কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি।
এছাড়াও একইদিন গভীর রাতে মিরসরাইয়ে দলীয় কার্যালয়ের সামনে ব্যানারসহ মিছিল করে দলটির নেতাকর্মীরা। এসব ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভ প্রকাশ করে এনসিপি, ছাত্রশক্তি, যুবশক্তিসহ ছাত্রজনতা। পরে গভীর রাতে এই ঘটনায় নিউ মার্কেট এলাকায় বিক্ষোভ শেষে দোস্ত বিল্ডিংয়ে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে আগুন দেয় ছাত্রজনতা।
গত সোমবার রাতে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, নগরীর নিউ মার্কেটস্থ দোস্ত বিল্ডিংয়ের কার্যালয়ে গিয়ে সাইনবোর্ড লাগাচ্ছেন উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শওকত উল আনাম এবং ছাত্রলীগ সন্ত্রাসী কাজী সুরুজ। ব্যানারটিতে লেখা রয়েছে ‘চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ’। এছাড়াও অফিসে নতুন একটি তালাও যুক্ত করেন তারা। এ সময় তাদের সঙ্গে আরো কয়েকজন নেতাকর্মী ভবনটিতে অবস্থান করেন। তবে ক্যামেরার সামনে তারা আসেননি।
অপরদিকে একই সময়ে নগরের লালদীঘি পাড়ের পুলিশ কমিশনারের দেওয়ালে থাকা মুজিবের ভাস্কর্যকে ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করেন নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগের ১৫-২০ জন নেতাকর্মী। এ সময় তারা জয় বাংলাসহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। একইসঙ্গে মিরসরাই উপজেলায়ও আওয়ামী লীগের অফিসের সামনে ব্যানার হাতে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেন কয়েকজন নেতাকর্মী। এ সময় যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা নিয়াজ মোর্শেদ এলিটের ছবিযুক্ত ব্যানার প্রদর্শন করে বলেন, আমরা এলিটের নির্দেশে কার্যালয়ে এসেছি এবং জয়বাংলা বলে অফিস খুলে দিলাম।
প্রতিটি ঘটনা ভারতে পলাতক সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের ভেরিফায়েড ফেসবুক ও আওয়ামী লীগের পেজগুলো থেকে প্রচার করা হয়েছে।
চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের প্রকাশ্যে আসা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় চলছে। কোতায়ালি থানার মাত্র তিনশ গজের মধ্যে ও পুলিশ কমিশনার অফিসের নিচে নিষিদ্ধ দলের সন্ত্রাসীরা কীভাবে জড়ো হতে পারে তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
আপ বাংলাদেশ চট্টগ্রাম মহানগরের সদস্য সচিব মশিউর রহমান মাহি জানান, জাতীয় নির্বাচনের পর সারা দেশে আওয়ামী লীগ আবার সক্রিয় হওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। বিএনপি যদি এ বিষয়ে নমনীয়তা দেখায় এবং সন্ত্রাসীদের কঠোরভাবে দমন না করে, তবে দেশ অস্থিতিশীল হবে এবং জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে সরকারকে মুখোমুখি করার ষড়যন্ত্র বাস্তবায়িত হতে পারে। এতে সরকারের পরিণতি যেমন খারাপ হবে, তেমনি দেশেরও ক্ষতি হবে। আমরা স্পষ্ট জানিয়ে দিতে চাই ফ্যাসিবাদ যতবার ফিরতে চাইবে, ৩৬ জুলাই ততবারই ফিরে আসবে।
এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জোবাইরুল আলম মানিক জানান, এ ঘটনায় সবচেয়ে দায় বেশি প্রশাসনের। কেননা নিষিদ্ধ সংগঠন হয়েও তারা কীভাবে অফিস খুলে মিছিল করে। আমরা পুলিশের কোনো তৎপরতা দেখিনি। তারা যদি তৎপরতা না দেখায় আমরা প্রশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে যাব।
এ বিষয়ে সিএমপির জনসংযোগ কর্মকর্তা (সহকারী পুলিশ সুপার) আমিনুর রশিদ জানান, এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিদের চিহ্নিতের চেষ্টা চলছে।