হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

সাতকানিয়া ও বাঁশখালীতে ৫ লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি

চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে। দুই উপজেলায় ৫ লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি রয়েছে।

গতকাল শুক্রবার দুপুরে কিছু থেমে সন্ধ্যার দিকে আবার শুরু হয় বৃষ্টি। এরই পাশাপাশি প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা।

জেলা প্রশাসনের তথ্যানুযায়ী, চট্টগ্রাম নগরীসহ জেলার ১৬ উপজেলায় ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬৪৮টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মোট ১৭৬টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ৬৭৩টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে আশ্রয় নিয়েছেন ২৩ হাজার ৮৫৩ জন। বন্যার্তদের সহায়তায় সরকার ৭০০ টন চাল ও ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৩০০ টন চাল, ৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা, ২২ হাজার ২৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ১৮ হাজার ৩৩০ প্যাকেট রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। পরবর্তী ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য আরো ৪০০ টন চাল ও ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা মজুত রয়েছে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গতকাল বেলা ৩টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ১৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ১২ জুলাই পর্যন্ত ভারি বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে বলেও সতর্ক করেছে সংস্থাটি। চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল রয়েছে।

গতকাল শুক্রবার বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নে আকস্মিক বন্যার পানিতে ভেসে গিয়ে আশিক (১১) ও মিরাজ (৬) নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুর্গম উপকূলীয় অনেক ইউনিয়নে এখনো ত্রাণ পৌঁছায়নি। স্বেচ্ছাসেবকেরাও ওই সব এলাকায় যেতে পারছে না। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন থাকা এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন থাকায় যোগাযোগ ও ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।

জানা যায়, সাতকানিয়ার কাছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের একটি অংশ বৃহস্পতিবার থেকে পানির নিচে রয়েছে। যান চলাচল এখনো চালু থাকলেও পানি আরও বাড়লে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সাতকানিয়ায় সাঙ্গু ও ডলু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় এবং পাহাড়ি ঢলে বাজালিয়া, কেওচিয়া, ছদাহা, কালিয়াইশ, ধর্মপুর, খাগরিয়া, আমিলাইশ, ঢেমশা, নলুয়া, চরতি ও পুরানগড় ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

এদিকে চট্টগ্রাম জেলায় আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় শুক্রবার থেকে সেনাবাহিনী এই উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করেছে।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের জরুরি অনুরোধে সেনাবাহিনীর ১০ ও ২৪ পদাতিক ডিভিশন বন্যাদুর্গত বিভিন্ন উপজেলায় অনুসন্ধান, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

টানা ভারি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ ও বাঁশখালী উপজেলার ব্যাপকভাবে প্লাবিত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে উদ্ধারকারী দল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম মোতায়েন করেছে। অন্যদিকে ভারি মৌসুমি বৃষ্টিপাতে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী, হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি উপজেলাতেও ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। এসব এলাকায় জরুরি উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য ২৪ পদাতিক ডিভিশনের সেনাসদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। সেনাবাহিনী আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে নিরলসভাবে কাজ করছে। উদ্ধার অভিযান ও ত্রাণ কার্যক্রম সুশৃঙ্খল করতে ২৪ পদাতিক ডিভিশন ইতোমধ্যে দুর্গত এলাকায় তিনটি ক্যাম্প স্থাপন করেছে।

জেডএম

পাহাড়ি ঢল ও জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত সীতাকুণ্ড, ত্রাণে মিলল স্বস্তি

মাটিরাঙ্গায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে বৃদ্ধের মৃত্যু, বাঁচাতে গিয়ে আহত স্ত্রী-ছেলে

মাদক কারবার নির্বিঘ্ন করতে দুই শতাধিক সোলার লাইট চুরি

‎সাংবাদিকতাকে দলীয়করণ না করে ‎প্রকৃত চিত্র তুলে ধরুন

চট্টগ্রামে সরকারি অফিসে সন্ত্রাসের হোতা আ.লীগ নেতা ‘রয়েল নাসির’

কক্সবাজারে বন্যায় ২৪ জনের প্রাণহানি

চার নদীর পানি ৬ পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপরে

পাহাড় কেটে ডেকে আনা দুর্যোগ

বাঁশখালীর বন্যার্ত মানুষের পাশে ঢাবি ছাত্রদল নেতা নাছির উদ্দিন শাওন

‍বন্যায় বিপর্যস্ত পেকুয়া, চুলায় জ্বলছে না আগুন