চাঁদপুরে এমভি আল বাখেরা জাহাজে সাত জন খুনের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আকাশ মণ্ডল ওরফে ইরফান নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। তাকে বাগেরহাটের চিতলমারী এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
বুধবার দুপুর ১২টার দিকে কুমিল্লা নগরের শাকতলা এলাকায় র্যাব-১১-এর সিপিসি-২ কুমিল্লা কার্যালয়ে সংবাদ ব্রিফিং হয়। সেখানে এ সব তথ্য জানান র্যাব-১১-এর উপ-অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন।
র্যাব জানিয়েছে, জাহাজের বেতন ও বোনাস বঞ্চিত করার অভিযোগে ইরফান একাই ৭ জনকে হত্যা করেছে। ওই সাত খুন সে একাই করেছে বলে র্যাবের কাছে দাবি করেছে।
গত ২২ ডিসেম্বর সকাল ৮ টার দিকে ভিকটিমগণ ও গ্রেপ্তারকৃত আকাশ এমভি-আল বাখেরা জাহাজে ৭২০ টন ইউরিয়া সার নিয়ে চট্টগ্রাম হতে বাঘাবাড়ি, সিরাজগঞ্জ এর উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী গ্রেফতারকৃত আকাশ ঘটনার দিন সন্ধ্যায় জাহাজে রাতের খাবারের তরকারীর মধ্যে ৩ পাতা (৩০টি) ঘুমের ঔষধ মিশিয়ে দেয়। শুধুমাত্র সুকানি জুয়েল এবং গ্রেফতারকৃত আকাশ ছাড়া সবাই রাতের খাবার খেয়ে তাদের নিজস্ব কেবিনে ঘুমিয়ে পড়ে। রাত ২ টার দিকে সাহারা বিকন এলাকায় আরও ৮-১০টি জাহাজের সাথে সুকানি জুয়েল এবং গ্রেফতারকৃত আকাশ তাদের জাহাজটি নোঙ্গর করে।
এই ঘটনায় গতকাল রাতে হাইমচর থানায় ‘অজ্ঞাত ডাকাত দলকে’ আসামি করে মামলা করেছেন জাহাজের মালিক মাহাবুব মোর্শেদ। মামলার এজাহারে তিনি ঠিকানাবিহীন জনৈক ইরফানের নাম উল্লেখ করেন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আহত জুয়েল তার সঙ্গে থাকা ৯ জনের মধ্যে ইরফান ছিল বলে হাতে লিখে জানান। সুস্থ হওয়ার পর ডাকাতদের দেখলে চিনবে বলে ইশারায় জানিয়েছেন।
বাদী এজাহারে জাহাজে থাকা সাত জন খুন ও এক আহতের কথা উল্লেখ করেন। খুন হওয়া ব্যক্তিরা হলেন- মাস্টার গোলাম কিবরিয়া, গ্রিজার সজিবুল ইসলাম, লস্কর মাজেদুল ইসলাম, শেখ সবুজ, আমিনুর মুন্সী, ইঞ্জিন চালক সালাউদ্দিন ও বাবুর্চি রানা কাজী। এ ছাড়া আহত হন সুকানি জুয়েল। তিনি ফরিদপুর সদর উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের সেকান্দর খালাসীর ছেলে।