কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নের নগরপাড় এলাকায় ফুটবল খেলা ও আতশবাজি ফাটানোকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় স্থানীয় এক ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যানসহ অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে দাউদকান্দি মডেল থানায় লিখিত এজহার দায়ের করা হয়েছে।
থানায় দায়ের করা এজহার সূত্রে জানা যায়, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে নগরপাড় এলাকায় স্থানীয় যুবকদের অংশগ্রহণে একটি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। খেলার একপর্যায়ে কয়েকজন যুবক মাঠের পাশে আতশবাজি ফাটালে তার আগুন খেলোয়াড় নোমান মিয়ার গায়ে পড়ে। এতে তাঁর পরনের শার্ট পুড়ে যায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে খেলোয়াড়, রেফারি এবং আতশবাজি ফাটানো যুবকদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই ঘটনার জের ধরে শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে একদল ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে নগরপাড় এলাকায় ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমানের দোকানের সামনে হামলা চালায়। হামলাকারীরা দোকানে প্রবেশ করে ভাঙচুর ও মারধর করলে ইয়াছিন, জাহাঙ্গীর আলম, সাইফুল ইসলাম বাবু, রকিব, তারেক, রাফিন এবং নোমান মিয়াসহ সাতজন আহত হন।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
এজহারে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলাকারীরা দোকানের ক্যাশবাক্স থেকে নগদ ২৫ হাজার টাকা নিয়ে যায়। পাশাপাশি দোকান ও পাশের একটি কক্ষে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি করে। হামলার সময় উপস্থিত লোকজনকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী হাবিবুর রহমান এ ঘটনায় ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০০ থেকে ২৫০ জনকে অভিযুক্ত করে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর দাবি, ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি।
অভিযুক্তদের বক্তব্য জানার জন্য সরেজমিনে চেষ্টা করা হলেও তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ বারী জানান, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মোশারফ খাঁ নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।