ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে নানা নাটকীয়তার পর গত শনিবার রাতে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) এম এয়াকুব আলীকে সমর্থন দিয়ে সরে দাঁড়িয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী ডা. ফরিদুল আলম।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা কার্যালয়ে জরুরি এক দায়িত্বশীল বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে করে নির্বাচন থেকে ডা. ফরিদুল আলম তাঁর প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেবেন বলে জানা গেছে। যদিও প্রতীক বরাদ্দ হয়ে যাওয়ায় নির্বাচনের দিন ব্যালট পেপারে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক থেকে যাবে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে।
জানা গেছে, পটিয়া আসনে এলডিপির এম এয়াকুব আলীর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর নির্বাচন কমিশন তা অবৈধ ঘোষণা করলে তিনি উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন। উচ্চ আদালতের নির্দেশে গত ২২ জানুয়ারি তাঁর প্রার্থিতা বৈধতা পেলে পরদিন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতীক পান তিনি। এর মধ্যে জামায়াতের প্রার্থী ডা. ফরিদুল আলম দাঁড়িপাল্লা প্রতীক পেয়ে দুই দিন প্রচার-প্রচারণাও চালিয়ে যান। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে শনিবার রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে এলডিপিকে সমর্থন জানানো হয়।
এলডিপিকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে পটিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর জসিম উদ্দীন বলেন, “জরুরি দায়িত্বশীল সমাবেশ থেকে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি ১১ দলীয় জোটের বৃহত্তর স্বার্থে পটিয়া আসনে এলডিপিকে সমর্থন দেওয়া হয়েছে। হ্যাঁ ভোট ও এলডিপির প্রার্থীর পক্ষে জামায়াতে ইসলামী সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা কাজ করবেন। ১১ দলীয় জোটকে অক্ষুণ্ণ রাখতে আমরা এ আসনে ছাড় দিয়েছি।”
পটিয়া পৌরসভা এলডিপির সভাপতি আমির হোসেন আমার দেশ–কে বলেন, “১১ দলীয় জোট থেকে এলডিপির এম এয়াকুব আলীকে প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোটের সবাইকে নিয়ে আমরা পটিয়া আসনে এলডিপিকে বিজয়ী করতে কাজ করে যাব।”
এদিকে এলডিপিকে সমর্থন জানিয়ে ডাকা চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের দায়িত্বশীল সমাবেশ জেলার নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুহাম্মদ নুরুল্লাহর সভাপতিত্বে জেলা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। দক্ষিণ জেলা জামায়াতের প্রচার সেক্রেটারী এডভোকেট আবু নাছের স্বাক্ষরিত পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বৈঠকের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করা হয়।
বৈঠকে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমীর অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল আলম চৌধুরী। দায়িত্বশীল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “জামায়াতের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জোটের স্বার্থে চট্টগ্রাম-১২ আসনে এলডিপির প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে জামায়াতের প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করছেন।” তিনি আরও বলেন, “এই সিদ্ধান্ত কোনো ব্যক্তি বা দলের স্বার্থে নয়; এটি একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক লক্ষ্যকে সামনে রেখে নেওয়া হয়েছে।” এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা কর্মপরিষদ সদস্য নুরুল হক, মাওলানা আরিফুর রশীদ, আ. ক. ম. ফরিদুল আলম, পটিয়া উপজেলা আমীর জসিম উদ্দীন, পটিয়া পৌরসভা আমীর মাস্টার সেলিম উদ্দীন, কালারপুল সাংগঠনিক থানা আমীর মাস্টার নাছির উদ্দীনসহ উপজেলা ও পৌরসভা নেতৃবৃন্দ।