দীর্ঘদিন শান্ত থাকার পর এবার বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে গোলাগুলির শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মিয়ানমার বাহিনীর কাছ থেকে দখল করা আরাকান আর্মির ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে দু’টি রোহিঙ্গা বিদ্রোহী গ্রুপ। শনিবার দুপুরের দিকে বাংলাদেশ মায়ানমার সীমান্তের ৪৩-৪৪ নম্বর পিলারের মধ্যবর্তী পুরান মাইজ্যা নামক ঘাঁটিতে অতর্কিত হামলা হয়। এই নিয়ে সীমান্তের এপারে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
মায়ানমারে বর্তমানে সক্রিয় বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের কয়েকটি সশস্ত্র বিদ্রোহী গ্রুপ কিছুদিন ধরে সক্রিয় হয়েছে। তাদের মধ্যে দুটি গ্রুপ শনিবার দুপুরের দিকে রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) ও রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও) যৌথ হামলা চালায় আরাকান আর্মির ঘাঁটিতে। ত্রিপক্ষীয় এই হামলায় অন্তত তিন-চারশো রাউন্ড গোলাগুলি শব্দ শুনতে পায় এপারের মানুষ। তবে হামলার ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. কামাল, আলী হোসেন এই প্রতিবেদককে মুঠোফোনে জানান, দুপক্ষের মধ্যে থেমে থেমে গোলাগুলির সময় কয়েক রাউন্ড রাইফেলের গুলি বাংলাদেশের এপারে এসে পড়ে। যার কারণে সীমান্ত বসবাসরত মানুষের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
মিয়ানমারের ওপারে গোলাগুলির সময় চাকঢালার চেরারমাঠ এলাকার বাসিন্দা ছৈয়দ আলমের বাড়ির উঠানে এবং ফসলি জমিতে গুলি ছুড়ে আসলেও এই ঘটনায় কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। পরে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে বলে জানান ছৈয়দ আলমের স্ত্রী আলমাস খাতুন ও ছেলে ওসমান গণি।
উল্লেখ্য, সীমান্তে রোহিঙ্গা বিদ্রোহী গ্রুপগুলোকে মায়ানমারের জান্তা বাহিনী নানাভাবে সহযোগিতা দিচ্ছে বলেও দাবি করছেন অনেকে। সীমান্তে ফলে সংঘাতের মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে এবং সেই অভিঘাত সরাসরি বাংলাদেশ সীমান্তের মানুষকে নাড়া দিচ্ছে।