চট্টগ্রামের পটিয়ায় একদিনের ব্যবধানে ৬টি গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ সোমবার (১৩ এপ্রিল) দিবাগত রাতে উপজেলার জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের নাইখাইন এলাকার ৫নং ওয়ার্ডে কৃষক মো. মহিউদ্দিন টিপুর গোয়ালঘর থেকে ৩টি গরু চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। চুরি হওয়া গরুর আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩ লাখ টাকা।
এর আগে রোববার রাতে পৌরসদরের ৪নং ওয়ার্ডের বাকখালী এলাকা থেকে আরও ৩টি গরু চুরি হয়। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় এলাকায় খামারি ও কৃষকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে পটিয়ার বিভিন্ন এলাকায় সংঘবদ্ধ গরু চোরচক্র সক্রিয় রয়েছে। সুযোগ বুঝে তারা খামারিদের ঘরে তালা লাগিয়ে কিংবা হাত-পা বেঁধে গরু লুট করে নিয়ে যাচ্ছে। গত এক সপ্তাহেই উপজেলার ভাটিখাইন এলাকার করল গ্রাম থেকে একটি খামারের দুটি মহিষ এবং বাকখালী এলাকা থেকে গাজী মামুনের তিনটি গরু চুরি হয়েছে।
ভুক্তভোগী কৃষক মো. মহিউদ্দিন টিপু জানান, সোমবার রাতে পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে পড়ার পর রাত আড়াইটার দিকে চোরের দল গোয়ালঘরে ঢুকে ৩টি গরু নিয়ে যায়। এ সময় তারা ঘরের বাইরে তালা লাগিয়ে দেয়, ফলে পরিবারের কেউ বাইরে বের হতে পারেননি।
এদিকে একই দিনে পটিয়া উপজেলা পরিষদের মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনামের উপস্থিতিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা নুর মোহাম্মদ এলাকায় গরু চুরি রোধে পুলিশের টহল বাড়ানোর দাবি জানান। কিন্তু ওই রাতেই তার নিজ এলাকাতেই চুরির ঘটনা ঘটায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জঙ্গলখাইন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বখতিয়ার উদ্দিন বকুল বলেন, “সভায় গরু চুরি প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু একই রাতে এমন ঘটনা ঘটায় সবাই হতাশ।”
এ বিষয়ে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে পটিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আকতার হোসেন জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।