হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

বাঁশখালীতে পানিবন্দি ২০ হাজার মানুষের হাহাকার

ধৈর্যের সঙ্গে বিপদ মোকাবিলা করুন: এমপি জহিরুল

উপজেলা প্রতিনিধি, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম)

ছবি: আমার দেশ

গত কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢল ও সমুদ্রের জোয়ারে পানিবন্দি থাকা ২০ হাজার মানুষ চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে। কিছু কিছু মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে এলেও অধিকাংশ মানুষ এখনো পানিবন্দি অবস্থায় আছে।

বাঁশখালী আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মাওলানা জহিরুল ইসলাম এমপি, দুর্যোগ কবলিত মানুষদের আতংকিত না হয়ে ধৈর্যের সাথে বিপদ মোকাবিলা করার আহ্বান জানিয়ে এক বিবৃতিতে বলেছেন, সংসদ অধিবেশন চলমান থাকায় আমি ঢাকায় অবস্থান করলেও প্রত্যেকের খোঁজখবর নিচ্ছি এবং যেকোন বিপদে আপনাদের পাশে আছি, ইতোমধ্যেই প্রশাসনকে সবধরনের সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুহুল আমীন বলেন, বিভিন্ন স্থানে পানিবন্দি থাকা মানুষগুলোকে সার্বক্ষণিক নজরে রাখা হয়েছে এবং তাদের যথাযথ সহায়তা করার জন্য চেয়ারম্যানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ছনুয়ায় কিছু মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে সেখানে প্রায় পাঁচশ জনের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। বানভাসি মানুষের মধ্যে সাড়ে ২৪ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হবে বলে জানান ইউএনও রুহুল আমীন।

পূর্ব বাঁশখালীর অন্তত ২০টি ছড়া-খাল জবর দখলে থাকায় অপরিকল্পিত ভাবে পানি প্রবাহের কারণে বিভিন্ন ইউনিয়ন ও নিম্নাঞ্চল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে বসতঘর, কৃষিজমি, মাছের ঘের, পুকুর ও গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপকূলীয় খানখানাবাদ এলাকায় বেড়িবাঁধের একাংশ ধসে পড়েছে। একই সঙ্গে পাহাড়ঘেরা এলাকাগুলোতে বাড়ছে পাহাড়ধসের শঙ্কা।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপজেলার ছনুয়া, শেখেরখীল, পুঁইছড়ি, চাম্বল, শীলকূপ, সরল, গন্ডামারা, কাথারিয়া, বাহারছড়া, পুকুরিয়া, খানখানাবাদ, রায়ছটা, প্রেমাশিয়া, রোসাংগীরি পাড়া এবং পৌরসভার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল। বৈলছড়ি ইউনিয়নের একাধিক এলাকাও পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত হয়েছে। কোথাও কোমরসমান পানি, কোথাও গ্রামীণ সড়ক ভেঙে গেছে, আবার কোথাও যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

পাহাড়ি ঢল ও জোয়ারের পানিতে আউশ ধানের বীজতলা, মৌসুমি সবজির ক্ষেত এবং বিভিন্ন ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। মাছের ঘের ও পুকুর প্লাবিত হওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন মৎস্য চাষিরাও। নদী ও খালের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে বসতঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয় এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হুমকির মুখে পড়েছে।

নাপোড়া শেখেরখীল এলাকায় সড়ক ভেঙে যাওয়ায় বন্যার পানি হিন্দুপাড়াসহ আশপাশের গ্রামে ঢুকে কয়েকশ বসতঘর প্লাবিত হয়েছে। সরকার বাজারের উত্তর পাশের নোয়াপাড়া, মোহাব্বত আলী পাড়া, কাচারীপাড়াসহ বিস্তীর্ণ এলাকা পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে ছনুয়া ইউনিয়নের পূর্বাঞ্চলে প্রায় এক হাজার পরিবার জলাবদ্ধতায় আটকা রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, স্লুইসগেটে মাছ ধরার জাল বসিয়ে রাখায় পানি দ্রুত নিষ্কাশন না হওয়ায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

টানা বর্ষণে সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। পুরো উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। গন্ডামারা, সরল, ছনুয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় টানা তিন দিন ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ, মোবাইল চার্জিং, ইন্টারনেট ব্যবহার এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

অন্ধকারে দুর্ভোগ বেড়েছে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষের। ব্যবসা-বাণিজ্যেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বর্ষণ, জলাবদ্ধতা ও বিদ্যুৎহীনতার ত্রিমুখী সংকটে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে বাঁশখালীর জনজীবন।

এমএইচ

১২ জুলাই পর্যন্ত বান্দরবানে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা বাড়ল

রামগতিতে খেলতে গিয়ে পানিতে পড়ে ভাইবোনের মৃত্যু

সাজেকে আটকা পড়া পর্যটকরা আছেন নিরাপদে

ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে বড় ভাই খুন

রাউজানে বৃষ্টির পানিতে পড়ে শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

বান্দরবানের সঙ্গে সারাদেশের যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন

টানা বৃষ্টিতে বান্দরবান স্থবির, আগাম প্রস্তুতিতে ক্ষতি কম

পাহাড় ধসে মাটির নিচে মাদরাসা, নিহত বেড়ে ৮

সাজেকে আটকা পড়েছেন সাড়ে চারশ পর্যটক

মতলব উত্তরে ৭ এইচএসসি পরীক্ষার্থী বহিষ্কার, ৫ শিক্ষককে অব্যাহতি