হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

হামের উপসর্গে আক্রান্ত শিশুদের বড় অংশই টিকাবিহীন

চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রামে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে হাম-এর উপসর্গে আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা। আক্রান্ত শিশুদের বড় একটি অংশই কোনো ধরনের টিকা নেয়নি।

গত ৮৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২৬ জন শিশু বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ নিয়ে বর্তমানে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৫ জনে। যদিও এদের মধ্যে কয়েকজন ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।

গতকাল শুধু চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ ৩৩ জন শিশু ভর্তি ছিল, যাদের অধিকাংশই টিকাবিহীন। এখন পর্যন্ত ভর্তি রোগীদের মধ্যে ৭ জনের হাম এবং একজনের রুবেলা শনাক্ত হয়েছে।

এদিকে, গত সোমবার রাতে কক্সবাজার থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে চমেক হাসপাতালে ভর্তি হওয়া সাড়ে পাঁচ মাস বয়সী এক শিশু, আয়েশা সিদ্দিকা, আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। তার নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে, তার মৃত্যু হামের কারণে হয়েছে কিনা—এমনটাই জানিয়েছে সিভিল সার্জন কার্যালয়।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম নগর থেকে গতকাল ৬ জন শিশুর নমুনা ঢাকার ন্যাশনাল পোলিও অ্যান্ড মিজেলস-রুবেলা ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। এ নিয়ে নগর থেকে মোট ৪১ জনের নমুনা পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে ১৫টি উপজেলা থেকে গতকাল আরও ১০ জনের নমুনা পাঠানো হয়। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ৯১ জন শিশুর নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

চমেক হাসপাতালে ভর্তি ৩৩ জন শিশুর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, আক্রান্তদের মধ্যে ৭ জনের বয়স শূন্য থেকে ৬ মাস, ৭ জনের বয়স ৭ থেকে ৯ মাস, ৪ জনের বয়স ১০ মাস থেকে ১ বছর, ১৩ জনের বয়স ২ থেকে ৫ বছর এবং ২ জনের বয়স ৬ থেকে ১০ বছর।

টিকাদানের হিসাব বলছে, পূর্ণ দুই ডোজ টিকা নিয়েছে মাত্র ৩ জন শিশু—যাদের বয়স দেড় বছর, ২ বছর ও ৮ বছর। এক ডোজ নিয়েছে ৯ জন। আর বাকি ২১ জন শিশু কোনো টিকাই নেয়নি। এদের মধ্যে ১৩ জনের বয়স ২ থেকে ৯ মাস এবং বাকিদের বয়স ১০ মাস থেকে ৮ বছরের মধ্যে।

এছাড়া চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল-এ ৪ মাস বয়সী একটি শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে। একই সময়ে চট্টগ্রাম মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতাল-এ ৬ জন শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে, যাদের বয়স ৬ মাস থেকে ২ বছরের মধ্যে।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা রোগীদের নমুনা নিয়মিত ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৯১ জনের নমুনা পাঠানো হয়েছে, যার মধ্যে গতকালই পাঠানো হয়েছে ১৬টি। কক্সবাজার থেকে আসা শিশুটির মৃত্যুর রিপোর্ট এখনও পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, চমেক হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুসা মিঞা বলেন, হাসপাতালে ভর্তি অধিকাংশ শিশুই টিকা নেয়নি। কেউ কেউ টিকার পূর্ণ ডোজ সম্পন্ন করেনি, আবার কিছু শিশুর টিকা নেওয়ার বয়সও হয়নি। তিনি আরও জানান, কোনো টিকার কার্যকারিতা শতভাগ নয়। অনেক সময় শরীরে পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি তৈরি না হলে টিকা প্রত্যাশিতভাবে কাজ নাও করতে পারে, যা স্বাভাবিক একটি বিষয়।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের সংক্রমণ রোধে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। অন্যথায় ভবিষ্যতে এই সংক্রমণ আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের বিক্ষোভে পুলিশের সাথে হাতাহাতি, ওসিসহ আহত ১০

ফরিদগঞ্জে পানিতে ডুবে দুই ভাইয়ের মৃত্যু

চট্টগ্রামে দুদকের মামলায় ৪ ব্যাংক কর্মকর্তার দণ্ড, একজনের যাবজ্জীবন

দুবাইয়ে মিসাইল হামলায় নিহত শাহ আলমের পরিবারের পাশে হাজী জসিম এমপি

চৌদ্দগ্রামে দফায় দফায় সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট

কুমিল্লায় রয়েল কোচের তিন বাসে আগুন

মিরসরাইয়ে বলিখেলায় যৌথ চ্যাম্পিয়ন বাঘা শরীফ-মোশাররফ

ফুটওভার ব্রিজের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ

ইটভাটার মাটি কাটা গর্তে পড়ে প্রাণ গেল দুই শিশুর

অপারেশন শেষে পলাতক চিকিৎসক, অ্যাম্বুলেন্সে প্রসূতির মৃত্যু