ভোট ডাকাতি প্রতিরোধের ঘোষণা
জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে নিষ্ঠা, সততা ও ইনসাফের সঙ্গে ফেনীবাসীর প্রতিনিধিত্ব করার অঙ্গীকার করেছেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান ও ফেনী-২ আসনে ১১দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের মনোনীত প্রার্থী মজিবুর রহমান মঞ্জু। তিনি বলেন, ঈগলের পক্ষে গণজোয়ার উঠেছে, কেউ এই জোয়ার রুখতে জনতার ভোটাধিকার বাধাগ্রস্ত চাইলে জনগণকে নিয়েই প্রতিরোধ করা হবে।
সোমবার রাতে নিজের প্রধান নির্বাচনি কার্যালয়ে প্রচার সমাপনী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
ফেনীবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, খুবই অল্প সময়ের মধ্যে প্রচার চালাতে হয়েছে, তাই সব ভোটারের কাছে যেতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করছি।
জুলাই সনদের ভিত্তিতে ১১ দল দেশ চালাবে জানিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সমর্থকদের নিজেদের স্বার্থেই হ্যাঁ ভোট দেওয়া উচিত। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ভিপি জয়নাল প্রতিশ্রুতি দিয়েও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ রক্ষা করছেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মঞ্জু বলেন, বিভিন্ন স্থানে ঈগলের প্রার্থী, নারী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে, নির্বাচনি ক্যাম্প ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং নির্বাচনি কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে। ভোটের দিন নির্ভয়ে কেন্দ্রে যাওয়ার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, কেউ বাধা বা আঘাত করার চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হবে। সাড়া না পেলে জনতাকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ করা হবে। কোনোভাবেই সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট হতে দেওয়া হবে না।
ফেনী সদর আসন নিয়ে নিজের পরিকল্পনার কথা বলতে গিয়ে মজিবুর রহমান মঞ্জু জানান, তিনি জাতীয় রাজনীতির প্রভাব কাজে লাগিয়ে জাতীয় ঐক্য ধরে রাখতে সর্বোচ্চ ভূমিকা রেখেছেন। জুলাই সনদ প্রণয়ন, সব দলের সঙ্গে সুসম্পর্ক এবং এলাকার উন্নয়নে সাধ্যমতো কাজ করেছেন বলে জানান তিনি।
ফেনীতে স্থায়ী বন্যা নিয়ন্ত্রণে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করিয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, এই প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হতে হলে দুর্নীতিমুক্ত এবং নিবেদিত সংসদ সদস্য প্রয়োজন। যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আছে বা কমিশন বাণিজ্যে অভ্যস্ত, কেউ প্রতিনিধি হলে রাষ্ট্রীয় বরাদ্দ পকেটে চলে যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এছাড়া ফেনীবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন; বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ, বিমানবন্দর, সেনা বিগ্রেড, লালপোল ও রেলক্রসিং ফ্লাইওভার নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। এসব প্রকল্প যাকে দিয়ে বাস্তবায়ন সম্ভব তাকেই নির্বাচিত করার আহ্বান জানান তিনি।
মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ফেনীর জলাবদ্ধতা, কিশোর গ্যাং সমস্যা, গ্যাস সংকট, যানজট, অপ্রশস্ত রাস্তা এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের সংকট নিয়ে বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা রয়েছে তার।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ১১ দলের প্রতীক ঈগল এবং হ্যাঁর পক্ষে ফেনী সদরবাসীর রায় চেয়ে আবেগাপ্লুত মঞ্জু বলেন, নতুন প্রার্থী হিসেবে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতারা আলোকে নতুন রাজনীতি ও উন্নয়নের সূচনা করতে চান তিনি।
একই সঙ্গে প্রশাসনের নানা হয়রানির কথা উল্লেখ করে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের আহবান জানান মজিবুর রহমান মঞ্জু।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, ফেনী জেলা জামায়াতের আমির মুফতি আব্দুল হান্নান, সাবেক আমির একেএম শামসুদ্দিন, নায়েবে আমির অধ্যাপক আবু ইউসুফ, প্রধান নির্বাচনি এজেন্ট আনম আব্দুর রহিম, এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা আজিজুর রহমান রিজভী, জেলা আহ্বায়ক জাহিদুল ইসলাম সৈকত, সদস্যসচিব ওয়ালি উল্লাহ মানিক, এবি পার্টির জেলা আহ্বায়ক মাস্টার আহসানুল্লাহ, সদস্য সচিব ফজলুল হক, খেলাফত মজলিস নেতা আজিজ উল্লাহ আহমদীসহ ১১ দলীয় নেতারা।