হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ২৭ জন, নেই ভ্যাকসিন , শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা আতঙ্কে
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় বেওয়ারিশ কুকুরের দৌরাত্ম্য বেড়েই চলেছে। উপজেলা জুড়ে শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যে এখন তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে,। সোমবার ও রোববার কুকুরের কামড়ে প্রায় ৪০ জন আহত হয়েছে।
এদের মধ্যে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৭ জন চিকিৎসা নিয়েছেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিরোধক ভ্যাকসিন নেই।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভেড়ামারা সরকারি কলেজ, সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি গার্লস স্কুল, মধ্যবাজার, রেলবাজার, পৌরসভা-হাসপাতাল সড়ক ও পৌরবাজার এলাকাসহ উপজেলা বিভিন্ন এলাকায় দল বেঁধে ঘুরে বেড়াচ্ছে বেওয়ারিশ কুকুরের ঝাঁক।
সকাল-বিকেল যখন স্কুল-কলেজ শুরু ও ছুটির সময় হয়, তখন এসব এলাকায় কুকুরের উপদ্রব আরও বেড়ে যায়। এতে করে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা সবসময়ই এক ধরনের অজানা আতঙ্কে থাকছেন।
আহত হাসান আলী বলেন, ৮-১০টি কুকুর একসঙ্গে হাঁটে। হুট করে ঘেউ ঘেউ করলে তা দেখে দৌড় দিলে তেড়ে আসে। ক্ষ্যাপাটে কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছি।
মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘ছেলেকে স্কুলে পাঠাতে পারছি না নিশ্চিন্ত মনে। রাস্তায় এত কুকুর যে, কখন যে কামড়ে দেয়—এই ভয়ে থাকি। একদিন তো অন্য বাড়িতে গিয়ে ফোন করার পরে ছেলেকে নিয়ে আসতে হয়েছে। এখন কুকুরের আতঙ্কে জীবনযাপন করছি।
শিক্ষক ইলিয়াস হোসেন বলেন, “প্রায়ই আমাদের শিক্ষার্থীদের ওপর কুকুরের আক্রমণের ঘটনা ঘটছে। কেউ কেউ হালকা আহত হচ্ছে, কেউ গুরুতরও হচ্ছে। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
অভিভাবকরা বলেন, সন্তান স্কুলে গেলেই টেনশনে থাকতে হয়। কখন কী হয়, এই অজানা শঙ্কা মাথায় ঘুরতে থাকে। এতে আমাদের মানসিক ভোগান্তিও দিন দিন বাড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব চললেও তা নিয়ন্ত্রণে তেমন কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বিভিন্ন হাটবাজার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে দিনের বেলায় যেমন, রাতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
দোকান বন্ধের পর ফাঁকা রাস্তায় ফেরার পথে কুকুরের ধাওয়া খাওয়া এখন যেন নিত্যদিনের ঘটনা। অনেকেই নিরাপত্তাহীনতার কারণে সন্ধ্যার পর অপ্রয়োজনে বাইরে বের হওয়া কমিয়ে দিয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, ভেড়ামারা পৌরসভা ও উপজেলা প্রশাসনকে অবিলম্বে বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, আক্রান্তদের চিকিৎসা সহায়তা এবং স্কুল-কলেজ এলাকাসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোকে নিরাপদ রাখতে জরুরি ভিত্তিতে উদ্যোগ নিতে হবে। না হলে যে কোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানি বা ভয়াবহ জলাতঙ্ক সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মিজানুর রহমান, ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোমবার পর্ষন্ত ২৭ জন চিকিৎসা নিয়েছে। হাসপাতালে প্রতিরোধক ভ্যাকসিন নেই ।
ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক রফিকুল ইসলাম বলেন, পৌরসভা থেকে শিগগিরই বেওয়ারিশ কুকুরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পৌরসভাকে এ ব্যাপারে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।