লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়কের সংস্কারকাজ শুরু করে দীর্ঘদিন ধরে ফেলে রাখায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও সড়ক বিভাগের গাফিলতির কারণে সংস্কারের নামে খুঁড়ে রাখা সড়কগুলো এখন কার্যত মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চিতোষী সড়কের সোনাপুর থেকে পানিয়ালা বাজার হয়ে উত্তর ভাটরা পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার এবং পৌর শহরের জোড় কবর থেকে সোনাপুর ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার সড়কের সংস্কারকাজ দীর্ঘদিন ধরে অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ফলে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে এসব সড়কে চলাচল করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
অভিযোগ রয়েছে, সোনাপুর-পানিয়ালা-উত্তর ভাটরা সড়কের বেশিরভাগ অংশে প্রায় ১৫ বছর ধরে কোনো পূর্ণাঙ্গ সংস্কার হয়নি। বর্ষা মৌসুমে গর্তে খোয়া ফেলে সাময়িক মেরামত করা হলেও স্থায়ী কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। প্রায় ছয় মাস আগে সংস্কারের জন্য ট্রাক্টর দিয়ে সড়কের বিভিন্ন অংশ খুঁড়ে কাজ শুরু করা হলেও অজ্ঞাত কারণে পরে তা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে সড়কের অবস্থা আরও নাজুক হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সড়কটি সমতল না করায় ছোট ছোট গর্ত এখন বড় আকার ধারণ করেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন স্থানে হাঁটুসমান পানি জমে যায়। ফলে পথচারী, শিক্ষার্থী এবং যানবাহনের যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
এ সড়কটি উপজেলার অন্যতম ব্যস্ত সড়ক হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন এই পথ ব্যবহার করে শিক্ষার্থীরা রামগঞ্জ সরকারি কলেজ, মডেল ডিগ্রি কলেজ, জিয়াউল হক উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ, বাদুর উচ্চ বিদ্যালয়, কেথুরী ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা ও পানিয়ালা উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে।
এছাড়া বৃহত্তর বাণিজ্যিক কেন্দ্র সোনাপুর বাজার, সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যমও এই সড়ক।
অন্যদিকে পৌর এলাকার সোনাপুর ব্রিজ থেকে জোড় কবর পর্যন্ত সড়কের সংস্কারকাজও শুরু হওয়ার পর বন্ধ হয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটি পানিতে তলিয়ে যায়, ফলে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয় এবং জনদুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
পানিয়ালা বাজারের ব্যবসায়ী ও সিএনজি অটোরিকশা চালকরা জানান, ট্রাক্টর দিয়ে সড়ক খুঁড়ে ফেলার পর কাজ বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দ্রুত সংস্কারকাজ সম্পন্ন না হলে বর্ষা মৌসুমে সড়কটি দিয়ে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সংস্কারকাজের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের যথাযথ ব্যবহার হচ্ছে না। কাজের পরিমাপ, বরাদ্দ ও বাস্তবায়ন নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সড়কগুলোর সংস্কারকাজ দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে রামগঞ্জ উপ-প্রকৌশলীর কার্যালয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও শুরুতে দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরে উপসহকারী প্রকৌশলী মোহাইমিনুল ও শাহিন আলম জানান, সোনাপুর থেকে উত্তর ভাটরা পর্যন্ত সড়কের সংস্কারকাজ পুনরায় শুরু করা হবে। একই সঙ্গে পৌর শহরের সোনাপুর ব্রিজ থেকে জোড় কবর পর্যন্ত সড়কের সংস্কারও সম্পন্ন করা হবে।
তবে কবে নাগাদ কাজ শুরু হবে এবং কবে শেষ হবে— এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানাতে পারেননি তারা। ফলে স্থানীয়দের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও ক্ষোভ আরও বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। দ্রুত সংস্কারকাজ সম্পন্ন করে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন সড়ক যোগাযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।