কুমিল্লা নগরীতে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হবে রোববার (২৮ জুন)। শিশুদের পুষ্টিহীনতা দূর করা, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ভিটামিন ‘এ’ ঘাটতিজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি প্রতিরোধে এ ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হবে।
দিনব্যাপী এ কর্মসূচিতে নগরীর ৫৫ হাজার ১৯১ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন (কুসিক)।
বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের অতীন্দ্র মোহন সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে কুসিকের মেডিকেল অফিসার ডা. চন্দনা রাণী জানান, জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে নগরীর ১১৪টি কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন পরিচালিত হবে। এ সময় নির্ধারিত বয়সি শিশুদের বিনা মূল্যে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
তিনি জানান, ৬ থেকে ১১ মাস বয়সি ৭ হাজার ৮২৫ শিশুকে নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল, ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সি ৪৭ হাজার ৩৬৬ শিশুকে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। শিশুদের কাছে সহজে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে বিশেষ প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
ক্যাম্পেইন সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রতিটি কেন্দ্রে দুজন করে স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি প্রতিটি ওয়ার্ডে দুজন করে সুপারভাইজার সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করবেন। শিশুদের নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নির্বিঘ্ন সেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সহযোগিতা করছে। এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা, আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার প্রজেক্ট, সূর্যের হাসি ক্লিনিক, রোটারি ক্লাব, এপেক্স ক্লাব অব কুমিল্লা সিটি এবং বিডি ক্লিন, কুমিল্লা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে।
কুসিক প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, ভিটামিন ‘এ’ শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি, দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষা এবং স্বাভাবিক শারীরিক বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই নির্ধারিত বয়সী শিশুদের অভিভাবকদের প্রতি ক্যাম্পেইনের দিন নিকটস্থ কেন্দ্রে গিয়ে সন্তানকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর মাধ্যমে এ জাতীয় কর্মসূচিকে সফল করতে হবে।
কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুন, নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়েম ভূঁইয়া, মেডিকেল অফিসার জহিরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জেডএম