কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসীর ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত প্রধান আসামি মো. বাবুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পৌর এলাকার শ্রীপুর গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ওই গ্রামের খোকন মিয়ার ছেলে। বিষয়টি বিকেলে নিশ্চিত করেছেন চৌদ্দগ্রাম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সামছুল আরেফিন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার রাতে উপজেলার মুন্সিরহাট ইউনিয়নের যাত্রাপুর গ্রামে মাদক সেবনকালে চারজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন এলাকাবাসী। পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জামিনে মুক্ত হয়ে এসে মামলার বাদী ও সাক্ষীদের হুমকি দিতে শুরু করেন।
অভিযোগ রয়েছে, জামিনে মুক্ত হওয়ার পরদিন সকালে মাদক মামলার সাক্ষী জুনায়েদ চৌদ্দগ্রাম বাজারে গেলে আসামি বাবুর নেতৃত্বে তাকে মারধর করা হয়। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করে বাড়ি ফেরার পথে আবারও সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালানো হয়।
হামলায় জুনায়েদ হোসেন, কামরুজ্জামান সোহাগ, সাদ্দাম হোসেন, সাইম, সুমন, মামুন ও ইকবাল হোসেন আহত হন। আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ অভিযান শুরু করে। এ সময় এক মাদকসেবীকেও আটক করা হয়। এদিকে হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে যাত্রাপুর গ্রামে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, মাদক ব্যবসা ও সেবনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণেই তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মাত্র একদিনের ব্যবধানে আলোচিত এই মামলার প্রধান আসামি বাবুকে গ্রেপ্তার করায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন যাত্রাপুর গ্রামের সাধারণ মানুষ। তবে হামলার ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামিদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ওসি আরিফ হোছাইন বলেন, “হামলার ঘটনায় প্রধান আসামি বাবুসহ দুইজনকে আটক করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”