টানা বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করেই চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। বিশেষ করে সীতাকুণ্ড সরকারি হাই স্কুল ও সীতাকুণ্ড এম এ কামিল মাদ্রাসা মাঠে বসা উপজেলার বৃহত্তম পশুর হাটে বাড়ছে ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়। কয়েকদিনের টানা বর্ষণে মাঠের বিভিন্ন স্থানে কাদা ও পানি জমলেও কোরবানির পশু কেনাবেচার উৎসাহে কোনো ভাটা পড়েনি। ছাতা মাথায় দিয়ে, কাদা মাড়িয়েই হাজারো মানুষ ভিড় করছেন হাটে।
সবচেয়ে স্বস্তির বিষয় হলো, সীতাকুণ্ড পৌর সদরসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে একাধিক পশুর হাট বসলেও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোথাও যানজটের সৃষ্টি হয়নি। মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক থাকায় সাধারণ যাত্রী, ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারছেন।
সরেজমিনে হাই স্কুল ও মাদ্রাসা মাঠ ঘুরে দেখা যায়, বৃষ্টির পানি থেকে পশুগুলোকে রক্ষা করতে ব্যাপারীরা ত্রিপল ও পলিথিন দিয়ে অস্থায়ী ছাউনি তৈরি করেছেন। উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল থেকে আসা বড় ও মাঝারি আকারের গরুর পাশাপাশি স্থানীয় খামারিদের পশুরও ব্যাপক সরবরাহ রয়েছে হাটে।
হাটে মাঝারি আকারের গরু কিনতে আসা কয়েকজন স্থানীয় ক্রেতা বলেন, মাঠে কিছুটা কাদা থাকলেও হাটের পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনা সন্তোষজনক। একই স্থানে প্রচুর পশু ওঠায় তারা সহজেই বিভিন্ন গরু দেখে দরদাম করতে পারছেন।
পশুর হাটের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, টানা বৃষ্টির মধ্যেও যেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা নির্বিঘ্নে বেচাকেনা করতে পারেন, সেজন্য প্রশাসন সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে। মাঠের কাদা ও পানি দ্রুত অপসারণে ইজারাদারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, হাটে অতিরিক্ত হাসিল আদায় বা ক্রেতা হয়রানির কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া বিভিন্ন পশুর হাট সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা গেছে, কোথাও মহাসড়কে যানজট নেই এবং যান চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি (তদন্ত) আলমগীর হোসেন বলেন, পশুর হাটকে কেন্দ্র করে পুলিশের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও গোয়েন্দা নজরদারি চলছে। ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা যাতে নিরাপদে লেনদেন করতে পারেন এবং নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারেন, সেজন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা রাখা হয়েছে।
প্রকৃতির বিরূপ পরিস্থিতি ও টানা বর্ষণের মধ্যেও সীতাকুণ্ডের হাই স্কুল ও মাদ্রাসা মাঠের জমজমাট ও সুশৃঙ্খল পশুর হাট প্রমাণ করেছে, কোনো প্রতিকূলতাই কোরবানির আমেজকে থামাতে পারেনি।
এআরবি