জুলাইযোদ্ধাকে আসামি করে চুরির মামলা
ভোলার দৌলতখান উপজেলার বাংলাবাজারে বিল্লাল (১৩) নামের এক শিশুকে নির্যাতন করে চুরির মামলায় স্বীকারোক্তি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বাংলাবাজার পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই ইবরাহিমের সহায়তা নিয়ে ওই শিশুকে নির্যাতন করে ও গুলির হুমকি দিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী মিরাজ কাজী, মাহাবুব, ফরহাদ, জিলন ও ফয়েজের স্বীকারোক্তি আদায়ের অভিযোগ করা হচ্ছে।
গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর বাংলাবাজারে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ ও মামলার সূত্রে জানা যায়, বাংলাবাজারের ব্যবসায়ী মো. কামালের সুপারি চুরি হওয়ায় অজ্ঞাতনামা আসামি করে দৌলতখান থানায় একটি মামলা করেন তিনি। আসামি চিহ্নিত করতে না পারায় টাকার বিনিময়ে মিরাজ কাজীর নেতৃত্বে মাহবুব, ফরহাদ, জিলন ও ফয়েজ শিশু বিল্লালকে ধরে আনে। নির্যাতনকারী ফয়েজের আপন ভাগনে বিল্লাল।
মিরাজ কাজীর দোকানে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়। তাদের সহযোগিতা করেন এএসআই ইবরাহিম। তিনি শিশুটিকে গুলি করার হুমকি দেন।
একপর্যায়ে ভয়ে নির্যাতকদের কথামতো বিল্লাল চুরির সঙ্গে নিজেকেসহ জুলাইযোদ্ধা সবুজ, কামাল, জামাল ও স্বপনের জড়িত থাকার স্বীকারোক্তি দেয়। বিল্লালের স্বীকারোক্তি অনুসারে ১৮ ডিসেম্বর কামাল তার মামলায় পাঁচ আসামির নাম যুক্ত করেন।
এর জেরে বিল্লালসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে আদালতে জানা যায়, নির্যাতনের মুখে বিল্লাল এ স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত চার আসামিকে জামিন দিয়েছে। কিন্তু বিল্লালের কোনো অভিভাবক না থাকায় তাকে জামিন করানো সম্ভব হয়নি। বর্তমানে সে খুলনার কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে রয়েছে।
মামলায় মিথ্যা আসামি হয়ে জেলখাটা জুলাইযোদ্ধা সবুজ বলেন, জুলাই বিপ্লবের পর এ মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলায় আসামি হতে হবে এটা কখনো আমি আশা করিনি।
বিল্লালকে নির্যাতনের জন্য অভিযুক্ত মিরাজ কাজী বলেন, ছেলেটিকে আমার দোকানে সবাই ধরে নিয়ে এসেছে। আমি ছেলেটির কাছে জানতে চেয়েছি ঘটনা। এ ব্যাপারে আমি আর কিছু জানি না। অভিযোগের বিষয়ে একই ধরনের বক্তব্য মাহবুব, ফরহাদ, জিলন ও ফয়েজের।
তবে এএসআই ইবরাহিম বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এ বিষয়ে বলতে পারবেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. জামাল হোসেন বলেন, শিশুটি যে জবানবন্দি দিয়েছে সে অনুযায়ী মামলা হয়েছে। বর্তমানে মামলায় তদন্ত চলছে।