বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. আবদুল্লাহ বলেছেন, ‘হ্যাঁ’ ভোট মানে হচ্ছে আমাদের স্বাধীন সাংবাদিকতা। এতে নির্ভর করছে আগামী দিনের সাংবাদিকতা। আগামী দিনের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য যে সংস্কারগুলো করা হয়েছে, সেখানে যেন আর ফ্যাসিবাদের উত্থান না হয়, এ জন্য ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে।
‘হ্যাঁ’কে জয়ী করে আমাদের স্বাধীন সাংবাদিকতা, স্বাধীন সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করতে হবে। এই দায়িত্ব আমাদের পালন করতে হবে। শুক্রবার রাতে ফেনী টেলিভিশন জার্নালিস্ট ক্লাবে নির্বাচনকালে সাংবাদিকতা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় তিনি আরো বলেন, এবারের নির্বাচন ভিন্ন প্রেক্ষাপটে হচ্ছে। একেবারেই ব্যতিক্রম একটি নির্বাচন। অন্য নির্বাচন থেকে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে বিগত তিনটি নির্বাচন থেকে। ট্র্যাডিশনাল নির্বাচনি রিপোর্ট এখন আর চলে না। ইলেকট্রনিকস মিডিয়ায় নির্বাচনি সাংবাদিকতার দায়িত্ব ও গুরুত্ব অনেক বেশি। পেশাদার দায়িত্বশীলতার জায়গা ঠিকঠাকমতো অনুসরণ করতে না পারলে নির্বাচন যেমন ভন্ডুলের আশঙ্কা তৈরি হবে, তেমন দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে একই সঙ্গে ইতিহাস স্থাপনের নির্বাচন করে দেওয়া সম্ভব।
এছাড়া ভোটাধিকার হরণের কারণে ভোটারদের প্রত্যাশা আকাশ ছোঁয়া এবং নির্বাচন নিয়ে অনেক সংকটের জায়গা আছে। কারণ, একমাত্র ১৯৮৮ সালের পর দেশের বড় একটি দল আওয়ামী লীগবিহীন নির্বাচন এর আগে হয়নি। এ নির্বাচনের মেরুকরণ সম্পূর্ণ ভিন্ন। পরস্পর কাছাকাছি মতাদর্শের দুটি দলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। এখন বাধাহীন সাংবাদিকতার পরিবেশ আছে।
ডিজিটাল প্লাটফর্মগুলোয় কতটুকু দায়িত্বশীল জায়গা থেকে আমরা দায়িত্ব পালন করতে পারছি? বৃহৎ একটি শক্তি নির্বাচনে নেই। তারা নির্বাচন ভন্ডুলের চেষ্টা করতে পারে। ভুয়া ভিডিও দিয়ে সাংবাদিকদের বিভ্রান্ত করতে পারে। এটা নির্বাচনে আশঙ্কা তৈরি করবে। যে তথ্য পাওয়া যাবে, সেগুলো বারবার যাচাই করতে হবে। গণতন্ত্রের জায়গা থেকে আমাদের হোঁচট খাওয়া যাবে না।
ক্লাবের সভাপতি আতিয়ার সজলের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি শাহাদাত হোসেন।
ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমানের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন ফেনী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ আবু তাহের ভূঁইয়া, শওকত মাহমুদ, সমীর উদ্দিন ভূঁইয়া প্রমুখ।