হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

লোহাগাড়ায় বনাঞ্চলের শতাধিক পাহাড় টিলা কেটে সাবাড়, নীরব বন বিভাগ

উপজেলা প্রতিনিধি, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম)

চুনতী ইউনিয়নের বাগানপাড়ায় পাহাড় কেটে সাবাড় করছে মাটিখেকোরা- ছবি: আমার দেশ

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় চুনতি রেঞ্জের সাতগড় বিটের আওতায় সংরক্ষিত বনাঞ্চলের প্রায় ১০০-র অধিক পাহাড়, টিলা কেটে মাটি বিক্রি, গাছ কেটে বন শূন্য ও বাড়ি নির্মাণের প্রতিযোগিতা চলছে। এসব অপরাধীদের বিরুদ্ধে বন বিভাগ জিরো টলারেন্স ঘোষণা দিলেও মাঠ পর্যায়ে চিত্র বিপরীত।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গত কয়েক মাসে সাতগড় বিটের অধীনে ইসহাক মিয়া সড়কসংলগ্ন সংরক্ষিত বনাঞ্চল এলাকার বিভিন্ন স্থানে, বাইতুল মামুর জামে মসজিদ পাশে, রাজারঘোনা, নলবনিয়া, দক্ষিণ সাতগড় বড় ঘোনা ও চুনতী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাগান পাড়া চুনতী সরকারি মহিলা ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন এলাকাসহ চুনতি রেঞ্জের প্রায় ১০০ অধিক বনাঞ্চলের পাহাড়, টিলা কেটে মাটি বিক্রি, বাড়ি নির্মাণ ও অবৈধভাবে গাছ কেটে পাহাড়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার দৃশ্য দেখা যায় এবং সাতগড় বিট অফিসের পাশেই প্রায় ১০টি মাছের প্রজেক্ট তৈরি করে মাছ চাষ করছে অবৈধ দখলদার।

এ বিষয়ে চুনতি রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা আবির হোসেন কাছে তথ্যের জন্য রেঞ্জ কার্যালয়ে গেলে তিনি তথ্য দিতে বাধ্য নয় বলে জানান। পরে রেঞ্জ কার্যালয় ত্যাগ করার কিছুক্ষণ পর রেঞ্জের সাতগড় বিট কর্মকর্তা মহসিন ফোন দিয়ে জানান, স্যার বলেছেন ঈদের সময় এসে চলে গেলেন, দেখতে খারাপ দেখায়, সম্পর্ক থাকল, আপনারা আসলেন, ঈদের কিছু খচরাপাতি নিয়ে গেলেন। নিউজ করলে তো সম্পর্ক থাকলো না। আসেন, ঈদ খরচ নিয়ে যান।

বনভূমি উজাড় ও গভীর বনাঞ্চলে বাসস্থান তৈরি করায় তীব্র খাদ্য সংকটে লোকালয়ে প্রবেশ করছে বন্যহাতিসহ অন্যান্য প্রাণী । বন্যপ্রাণী লোকালয়ে চলে আসায় কৃষকের উৎপাদিত ফসল, ঘর-বাড়ি নষ্ট করার পাশাপাশি প্রাণও হারাচ্ছে সাধারণ মানুষ।

সংরক্ষিত বনাঞ্চল দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ, পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করতে গিয়ে বনাঞ্চলের যথেষ্ট ক্ষতি করছে বলে অভিযোগ বন ও বন্য প্রেমীদের।

স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ চুনতি রেঞ্জ কর্মকর্তা আবির হোসেন ও বিট কর্মকর্তা মহসিন ভূমিদস্যুদের সঙ্গে আঁতাত করায় বনাঞ্চল দখল বন্ধ হচ্ছে না। বন বিভাগের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে পাহাড়, টিলা কেটে মাটি বিক্রি, সংঘবদ্ধচক্র গাছ কেটে বনশূন্য ও বাড়ি নির্মাণের করে থাকে। এসব বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ও পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলে লোক দেখানো অভিযান পরিচালনা ও মামলা দিয়ে দায় এড়িয়ে যান বন বিভাগ। অন্যদিকে অবৈধ দখলদার তাদের দখল স্থায়ী করতে নানামুখী তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা যায়।

পরিবেশ কর্মী সানজিদা রহমান বলেন, বন সম্পদ রক্ষায় সকল প্রশাসনের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মারাত্মক অভাব রয়েছে। বন বিভাগের ওপর সাধারণ মানুষের যে ক্ষোভ সৃষ্টি হচ্ছে, সে বিষয়টি বন বিভাগের যথাযথ বিচার-বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার, কোথায় সমস্যাটা হচ্ছে। পাহাড় কেটে সাবাড়, বাড়ি নির্মাণ ও গাছ কেটে বনাঞ্চল ধ্বংস এগুলো তো একদিনে সম্ভব নয়। এসব সমস্যার প্রথম থেকে ব্যবস্থা না নিয়ে নির্মাণের মাঝ পর্যায়ে এসে অভিযান পরিচালনা করে বাড়ি ভেঙে ও মামলা করায় নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে সাধারণ মানুষ।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম দক্ষিণ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোহেল রানা বলেন, সংরক্ষিত বনাঞ্চল পাহাড়, টিলা, গাছ কাটা, স্থাপনা নির্মাণ করা সম্পূর্ণ অবৈধ। আপনি অবৈধ স্থাপনাগুলোর ঠিকানা দেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং সাংবাদিককে টাকা দিয়ে সমঝোতা করার চেষ্টার বিষয়টি দেখছেন বলে জানান।

যুবককে ছরিকাঘাত করলেন বহিষ্কৃত যুবদল নেতা

পেকুয়ায় গৃহবধূর লাশ উদ্ধার, স্বামী পলাতক ‎

নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রাইভেটকার দুমড়েমুচড়ে একই পরিবারের পাঁচজন আহত

জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের ভূমিকম্প ঝুঁকি দূর করতে উদ্যোগ নেবেন অর্থমন্ত্রী

ঈদ মুসলিম উম্মাহর আনন্দ, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধের উৎসব: কৃষিমন্ত্রী

অনলাইন টিকিটিংয়ে ত্রুটি স্বীকার রেল প্রতিমন্ত্রীর

সীমান্তে প্রায় সাড়ে ৯ কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ

চাঁদপুরে ৪০ গ্রামে ঈদ উদ্‌যাপন

চাঁদপুরসহ দেশের যেসব এলাকায় শুক্রবার উদযাপন হবে ঈদুল ফিতর

প্রস্তুত কক্সবাজার, যেখানে ঘুরতে পারেন পর্যটকরা