কুমিল্লা নগরীতে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করে আসা হকারদের জায়গা দেওয়ায় কুমিল্লা নগরীর এক ভবন মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওযার কথা জানিয়েছেন প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু।
২৮ জুন রোববার বিকেলে কুমিল্লা সিটি কপোরেশনের উচ্ছেদ অভিযানে গিয়ে ওই ভবনের নিচে অন্তত ২০টি ভ্রাম্যমাণ হকারদের ভ্যান জব্দ করা হয়।
এ সময় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নজরুল এভিনিউয়ের নুরুল আমিন টাওয়ারের কেয়ারটেকার ও দারোয়ান মিলে প্রতি ভ্যান এক হাজার টাকা ভাড়ার বিনিময়ে হকারদের দিয়ে ব্যবসা করে আসছেন। এর সঙ্গে ভবন মালিকেরও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে ওই ভবনের হোল্ডিং নাম্বার জব্দ এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু।
অভিযানে সিটি কপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুন, সিটি কপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
কুমিল্লা সিটি কপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু জানান, চলমান উচ্ছেদ অভিযানের অংশ হিসেবে কুমিল্লা নগরীর রানিরবাজার থেকে কান্দিরপাড় পর্যন্ত অবৈধ ফুটপাত দখলদারদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এই সময় এভিনিউতে নুরুল আমিন টাওয়ার নামে একটি ভবনের পার্কিং থেকে অন্তত ২০ হকারদের ভ্যান জব্দ করা হয় এবং সেগুলোকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে বিনষ্ট করা হয়েছে। এছাড়া সড়কের পাশে বিভিন্ন ভবনের নিচ থেকে জন ভোগান্তি সৃষ্টিকারী হকারদের ভ্যান জব্দ করে সেগুলো বিনষ্ট করা হয়েছে।
প্রশাসক আরো বলেন, আমরা কারো ক্ষতি করতে চাই না। কিন্তু কেউ যদি আইন অমান্য করে জনভোগান্তি সৃষ্টি করে, সে ক্ষেত্রে আমরা কোনো উদারতা দেখাব না।
কুমিল্লা সিটি কপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া হোসেন জানান, অবৈধভাবে ফুটপাত দখলকারীদের আশ্রয় দিয়ে ওই ভবন মালিকও প্রচলিত আইনে অপরাধ করেছেন। আমরা হকারদের আশ্রয় দেয়া ওই ভবনের মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিব। যেসব ব্যবসার প্রতিষ্ঠানের সামনে হকারা অবস্থান নিবে সেসব প্রতিষ্ঠানগুলোকেও আইনের আওতায় আনা হবে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার কুমিল্লার কান্দিরপাড় থেকে চকবাজার মোড় পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করে কুমিল্লা সিটি কপোরেশন। সে সময়ে অন্তত ৪০টি ভ্যান বিনষ্ট করা হয়। ফুটপাত দখল মুক্ত এবং যানজট নিরসনে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে কুমিল্লা সিটি প্রশাসক।
এমএইচ