চট্টগ্রাম বন্দরের কাছাকাছি হওয়ার ভৌগোলিক সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে সন্দ্বীপে একটি পূর্ণাঙ্গ শিল্পাঞ্চল বা ইকোনমিক জোন স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তাঁরা বলছেন, সন্দ্বীপে শিল্পাঞ্চল গড়ে উঠলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আসবে। একই সঙ্গে নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুরসহ বৃহত্তর উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
শনিবার বেলা ১১টায় সন্দ্বীপের স্থানীয় ঘরকুটুম রেস্তোরাঁয় ‘সন্দ্বীপে শিল্পাঞ্চল স্থাপন’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা। সেকান্দার সাফিয়া ফাউন্ডেশন এই সভার আয়োজন করে।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইয়ুথ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আবুল কাশেম হায়দার বলেন, শিল্পায়নের এই যুগে সন্দ্বীপ শিল্পাঞ্চলের জন্য একটি আদর্শ স্থান। চট্টগ্রাম বন্দর অতি নিকটে হওয়ায় এখান থেকে আমদানি-রপ্তানিতে সুবিধা হবে, পণ্য পরিবহন খরচও অনেক কমে আসবে। বন্দরসুবিধায় আকৃষ্ট হয়ে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এই দ্বীপে শিল্প স্থাপনে উদ্যোগী হবেন। প্রাসঙ্গিকভাবে এখানে পর্যটন শিল্পেরও দ্রুত বিকাশ ঘটবে বলে তিনি মনে করেন।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সমাজসেবা কর্মকর্তা কেফায়েত উল্লাহ এবং স্থানীয় বিএনপি নেতা গাজী মোহাম্মদ হানিফ।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে কেফায়েত উল্লাহ বলেন, সরকার যদি এখানে ইকোনমিক জোন তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করে, তবে উদ্যোক্তারা সন্দ্বীপে বিনিয়োগ করতে প্রবল আগ্রহী। অন্যদিকে গাজী মোহাম্মদ হানিফ বলেন, সন্দ্বীপে ইকোনমিক জোন স্থাপিত হলে এখানকার অর্থনীতিতে আমূল পরিবর্তন আসবে এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।
চারু মিল্লাতের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভার উন্মুক্ত পর্বে অংশ নেন সন্দ্বীপের শতাধিক ব্যবসায়ী। এ সময় নিজেদের দাবি ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে একাধিক উদ্যোক্তা বলেন, ‘শিল্পাঞ্চল গড়ার জন্য সবার আগে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, গ্যাস সরবরাহ ও নিরাপদ নৌ যোগাযোগের নিশ্চয়তা প্রয়োজন। অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং সরকারের নীতিগত সহায়তা পেলে আমরা স্থানীয় ব্যবসায়ীরাই এখানে বড় বিনিয়োগ করতে প্রস্তুত।’
সভায় উপস্থিত সবাই সন্দ্বীপের অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দ্রুত একটি শিল্পাঞ্চল তৈরির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
এমএইচ