হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

সীতাকুণ্ডে শিল্পায়নের নামে কৃষিজমি ভরাট

জহিরুল ইসলাম, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম)

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় শিল্পায়নের নামে চলছে কৃষিজমি ও জলাশয় ভরাটের মহোৎসব। একের পর এক ফসলি জমি, ডোবা, খাল ও প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশনের পথ ভরাট করা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে না সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে। এতে পরিবেশ বিপর্যয়ের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিকল্পনাহীন ও অবৈধ ভরাটের কারণে একদিকে যেমন খাদ্য উৎপাদনের সক্ষমতা হুমকির মুখে পড়ছে, অন্যদিকে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশনের পথ। সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। এতে ঝুঁকির মুখে পড়ছে শত শত বসতবাড়ি, মসজিদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবকাঠামো। সবশেষ বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের মগপুকুর এলাকায় লোকালয়ের মাঝখানে ‘অটোমেশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান প্রায় এক একর আয়তনের একটি জলাশয় ভরাটের কাজ শুরু করেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ভরাটের সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশনের পথও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে কয়েকশ পরিবার চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, আসন্ন বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে আশপাশের বসতবাড়ির পাশাপাশি জামে মসজিদ ও একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। স্থানীয় বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি সদস্য আবুল মুনসুর বলেন, আমার বাড়ির পাশেই দিনরাত জলাশয় ভরাট চলছে। দুই সপ্তাহ আগে এসিল্যান্ড বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছি কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উল্টো প্রতিবাদ করায় কোম্পানির লোকজন আমাদের বিরুদ্ধে থানায় চাঁদাবাজির মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করছে। এর আগেও সৈয়দপুর ইউনিয়নে কৃষিজমি ভরাটকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ভাড়াটিয়া লোকজন ফসলি জমি ভরাট করতে গেলে কৃষকরা বাধা দেন। এতে পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে গ্রামবাসী একত্রিত হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, উত্তর বাঁশবাড়িয়া এলাকায় মহাসড়কের পশ্চিম পাশে কয়েকশ একর জমি দীর্ঘদিন ধরে ভরাট করা হচ্ছে। একই ভাবে এসকেএম জুট মিলসের পশ্চিম পাশে কয়েক একর কৃষিজমি এবং ছোট দারোগাহাট এলাকায় মহাসড়কের পূর্ব পাশেও অবাধে চলছে ফসলি জমি ভরাটের কাজ।

ভূমি ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, অনুমতি ছাড়া কৃষিজমির শ্রেণি পরিবর্তন ও জলাশয় ভরাট সম্পূর্ণ বেআইনি। তাদের মতে, পরিবেশ অধিদপ্তর, ভূমি প্রশাসন ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত অভিযান এখন সময়ের দাবি। কিন্তু সীতাকুণ্ডে সে ধরনের নজরদারি কার্যত অনুপস্থিত।

সীতাকুণ্ডের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন,

অনুমতি ছাড়া কৃষিজমি ভরাট করা যায় না। সরেজমিন প্রমাণ পাওয়া গেলে ভরাট কাজ বন্ধ করে দেওয়া হবে।

সীতাকুণ্ড থানার ওসি মহিনুল ইসলাম বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দেখা আমার দায়িত্ব। কৃষিজমি ভরাটের বিষয়টি এসিল্যান্ড ও পরিবেশ অধিদপ্তর দেখবে।

অন্যদিকে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের মালিক আবু তাহের দাবি করেন, ডোবা বা জলাশয় ভরাটে অনুমতি লাগে, এটা জানা ছিল না। প্রয়োজনে অনুমতি নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলার উপপরিচালক মুজাহিদুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

চট্টগ্রাম-৪ আসন: ধানের শীষের প্রচারে নামলেন বিএসবিএর সভাপতি

গভীর রাতে জামায়াত প্রার্থীর নির্বাচনি অফিসে আগুন

পুলিশের তাণ্ডব নির্বাচন ঘিরে ষড়যন্ত্রের আভাস: এবি পার্টির চেয়ারম্যান

পারিবারিক ফ্ল্যাট নিয়ে দ্বন্দ্বে বোনের বিরুদ্ধে ভাইয়ের মামলা

বেগমগঞ্জে ১১ দলের নির্বাচনি অফিসে আগুন

১২ তারিখ পর্যন্ত চাঁদাবাজি বন্ধের অনুরোধ জানালেন বিএনপির প্রার্থী

গভীর সমুদ্রে দুই আর্টিসানাল ট্রলিং বোট, ১০০০ কেজি মাছসহ ধরা ৩৪ জেলে

জাল ভোট কেউ দিতে আসলে প্রতিহত করা হবে: জামায়াতের প্রার্থী

চট্টগ্রাম বন্দরে এবার অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক

ভোট ছাপানোর চিন্তা করলে বহিষ্কার, বিএনপির প্রার্থী শ্যামলের হুঁশিয়ারি