১০ লাখ মানুষের সমাগমের আশা
প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে বইমেলা হলেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও রমজান মাসের কারণে চট্টগ্রামে বইমেলা পিছিয়ে নেওয়া হয়। গত ৩১ মার্চ স্বাধীনতার বইমেলা নামে ১৯ দিনব্যাপী বইমেলা শুরু করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। তবে এখনো সেই মেলা জমে ওঠেনি। ছুটির দিনগুলি ছাড়া মেলায় তেমন কোনো পাঠক নেই বললেই চলে। তাই এবার বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখ উৎসবের অপেক্ষায় আছেন মেলায় অংশ নেওয়া প্রকাশক ও লেখকেরা। তারা বলছেন, শনিবার মেলা শুরুর ১২ দিন পেরিয়ে গেলেও মেলা জমে ওঠেনি। তবে বৈশাখী উৎসবে জমে ওঠতে পারে বইমেলা। দিনটিকে ঘিরে উৎসবমুখর ও জমজমাট হয়ে উঠবে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। এতে বৈশাখের আনন্দে বইমেলায়ও ঢু মারতে পারেন বইপ্রেমীরা।
জানা যায়, গত ৩১ মার্চ নগরীর জিমনেশিয়াম মাঠে ১৯ দিনব্যাপী বইমেলার উদ্বোধন করেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এবারের বইমেলায় জিমনেসিয়াম মাঠের ৪০ হাজার বর্গফুট জুড়ে ১৩১টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ডাবল স্টল ৩৫টি এবং সিঙ্গেল স্টল ৯৬টি। ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মোট ৯৬টি প্রকাশনা সংস্থা মেলায় অংশ নিয়েছে।
মেলার মঞ্চে প্রতিদিনের আয়োজনে থাকছে রবীন্দ্র উৎসব, নজরুল উৎসব, লেখক সমাবেশ, যুব উৎসব, শিশু উৎসব, মুক্তিযুদ্ধ উৎসব, ছড়া উৎসব, কবিতা উৎসব, আলোচনা, লোক উৎসব, তারুণ্য উৎসব, নারী উৎসব, বৈশাখী উৎসব, মরমী উৎসব, আবৃত্তি উৎসব, নৃগোষ্ঠী উৎসব, পেশাজীবী সমাবেশ ও চাটগাঁ উৎসব। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিল্পীরা প্রতিদিন সন্ধ্যান গান পরিবেশন করছেন মেলায়। এছাড়া প্রতিদিন বিষয়ভিত্তিক আলোচনা, মুক্তিযুদ্ধের জাগরণী গান ও শিশু কিশোর চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতাও হচ্ছে। এতে যোগ দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গুণী শিক্ষক, রাজনীতিবিদ, সমাজকর্মী, সংস্কৃতি কর্মী ও জনপ্রতিনিধিরা।
এদিকে স্টল মালিকরা জানিয়েছেন, মেলার ১২ দিন পার হলেও তেমনভাবে জমে ওঠেনি বইয়ের বেচাকেনা। বেশিরভাগ মানুষ মেলায় এসে ঘুরাঘুরি করেন। বলতে গেলে বই কেনার পাঠক কম। অনেকেই বইয়ের সাথে সিল্ফি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। স্টলের চেয়ে খাবারের দোকানে ভিড় বেশি।
চট্টগ্রাম সৃজনশীল প্রকাশক পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও তৃতীয় চোখ প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী মো. আলী প্রয়াস জানান, এবার জাতীয় ইস্যুর কারণে ঢাকায়ও বইমেলা তেমন জমে ওঠেনি। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি এপ্রিলে করার। তবে অসময়ে হওয়াতে মানুষজন কম। পাঠকের সংখ্যাও কম। আমরা পহেলা বৈশাখ উৎসবে বইমেলা জমে ওঠবে বলে আশা করছি। সেদিন লাখ লাখ মানুষের সমাগম ঘটবে নগরে। তিনি বলেন, যদি কালবৈশাখী ঝড় না নামে তাহলে মেলা ১৪ ফেব্রুয়ারি মেলা জমে ওঠলে সেই ধারাবাহিকতা কয়েকদিন থাকবে। এতে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবে প্রকাশকরা।
লেখক সরোয়ার হোসাইন লাভলু বলেন, ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে এপ্রিলে মেলা করায় অনেকেই জানেন না। তাছাড়া এই সময়ে মানুষ বৈশাখী উৎসবে মেতে ওঠবে নাকি বইমেলায় আসবে সেটি একটি প্রশ্ন। আমি এবার একটি বই প্রকাশ করলে বিক্রি নিয়ে শঙ্কায় আছি। এরপরও আমরা লেখকরা আশায় আছি বৈশাখী উৎসবে বই বেচাকেনা জমে ওঠবে, সেইসাথে লেখক, কবি, সাহিত্যিক, বইপ্রেমীদের আসরও জমে ওঠবে বইমেলার আনাচেকানাচে।
চট্টগ্রাম সৃজনশীল প্রকাশক পরিষদের সভাপতি সাহাবুদ্দিন বাবু জানান, আমরা মেলার ১২ দিন পার করলেও প্রকাশকদের জন্য কোন সুখকর বার্তা আসেনি। তাইতো আমরা পহেলা বৈশাখের অপেক্ষায় প্রহর গুণছি। কেননা সেদিন বিশাল এই নগরীর ১০ লাখ মানুষ মেলায় সকাল থেকে সন্ধ্যায় আসা-যাওয়া করবে বলে আমরা ধারণা করছি। তাছাড়া বইমেলার স্থান জিমনেশিয়াম মাঠ সিআরবির শিরীষতলা, শিল্পকলা একাডেমী, ডিসি হিলসহ অন্যান উৎসব পয়েন্টের কাছাকাছি। এজন্য আমাদের আশা বই বিক্রির ঘাটতি সেদিন পূরণ হবে। প্রকাশকরাও বই বিক্রি করে হাসি নিয়ে ঘরে ফিরবে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, আমাদের ছেলেমেয়েরা অনেকেই আজকাল মোবাইলে ও মাদকে আসক্ত হয়ে পড়েছে। সময় অর্থ, স্বাস্থ্য সবই শেষ করছে ডিভাইসের পেছনে। এতে তারা প্রকৃত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বই অন্যতম বন্ধু যা তাদের মোবাইল ও মাদকের আসক্তি থেকে বের করে সৃজনশীল মেধাবী প্রজন্ম হিসেবে গড়ে তুলতে পারে। তিনি বলেন, “এক্ষেত্রে মা-বাবা, শিক্ষক ও সমাজের সবাইকে সচেতন হতে হবে।